ঢাকা | জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ - ৩:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

নগরীতে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মহাপরিকল্পনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন

  • আপডেট: Saturday, January 24, 2026 - 11:11 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মহাপরিকল্পনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের নেয়া মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবি করা হয়েছে। এসময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনায় ‘শতভাগ গ্রিন গ্রিড’ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিবাদীরা।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর অলকার মোড়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অভিযোগ করা হয় নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের ‘সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে প্রণয়ন করা এই খসড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করেই’ তৈরি করা হয়েছে। আরো অভিযোগ করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনাটি (২০২৬ -২০৫০) প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসাধারণ, নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের ‘সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। নাগরিক সমাজ ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা বা উন্মুক্ত পরামর্শ ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের অস্বচ্ছ ও দায়মুক্তিমূলক নীতি প্রণয়নেরই পুনরাবৃত্তি।

প্রতিবাদকারিরা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল কেবল নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম করে একটি দীর্ঘমেয়াদি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো অর্থবহ অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। যেভাবে অতীতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ব্যবহার করে বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, ইপিএসএমপি ২০২৫ সেই একই পথে ভবিষ্যতেও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পকে বৈধতা দেয়ার কাঠামো তৈরি করছে।

খসড়া মহাপরিকল্পনায় ‘এনার্জি ট্রানজিশন’ কে ব্যাপক প্রচার করা হলেও বাস্তবে প্রকৃত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ সেখানে মাত্র ১৭ শতাংশ, যেখানে কাগজে দেখানো হয়েছে ‘৪৪ শতাংশ’। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১৫ দশমিক ৮ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫ দশমিক ২ গিগাওয়াট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ২৫ বছর পরও এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা ৫০ শতাংশ থাকবে- যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া কো-ফায়ারিং ও কার্বন ক্যাপচার (সিসিএস)– এর মত ব্যয়বহুল ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিকে সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয় এবং ভবিষ্যতে দেশকে নতুন ঋণ, ভর্তুকি ও পরিবেশগত সঙ্কটে ফেলবে। এ সময় দাবি জানানো হয়, অবিলম্বে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) স্থগিত ও সম্পূর্ণ বাতিল করা হোক। নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করা হোক। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে, বাস্তবসম্মত ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন হোক। ন্যায্য, সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ হোক।

বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে এবং পরিবর্তন, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-রাজশাহী ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর যৌথ আয়োজনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ কর্মসুচিতে বক্তব্য দেন উন্নয়ন কর্মী হাসিবুল হাসান, লিয়াকত আলী, পঙ্কজ কর্মকার এবং পরিবর্তন পরিচালক রাশেদ রিপন।