শুরুতেই জমজমাট প্রচারণায় রাজশাহীর প্রার্থীরা
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনই রাজশাহীতে প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর বুধবার দিবাগত মধ্যরাতেই রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় এলাকা প্রার্থীদের কাপড়ের পোস্টারে ঢেকে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গণসংযোগে নামেন প্রার্থীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী জননেতা মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সুখী ও শান্তির নগরী রাজশাহীকে অনিরাপদ করে তোলা হয়েছিল। আমরা রাজশাহী মহানগরীকে আগের মতো নিরাপদ ও বসবাসের যোগ্য হিসেবে গড়ো তুলবো। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্র্যন্ত নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডে নির্বাচনি গণসংযোগ শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। এই নগরী মেয়র ও এমপি থাকাকালে
নগরীর উন্নয়নে কাজ করেছি। বিএনপির পর আর সেভাবে এ নগরী কাঙ্খিত ও স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি। আমরা সুযোগ পেলে আগামীতে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে তুলে সেখানেই আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এই নগরী ও এই শহর যাতে উন্নত ও সুখী হয় সেই ব্যাপারে যা যা পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার তার সবকিছু করা হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আপনাদের ভোট ও দোয়া প্রত্যাশা করছি। আমাকে আপনারা ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। সবশেষে তিনি গণসংযোগে যোগ দেয়া বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে বাড়ি, মহল্লায় মহল্লায় কাজ করার আহবান জানান।
পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাসিকের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, রাজশাহীর জনপ্রিয় গণমানুষের নেতা মিজানুর রহমান মিনু ভাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। আগামী দিনে মিনু ভাইয়ের হাত ধরে সমৃদ্ধিশীল নগরী গড়ে উঠবে।
এদিকে, প্রচার-প্রচারণার শুরুর প্রথম দিনেই নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর গণসংযোগ কর্মসূচিতে ব্যাপক নেতাকর্মী ও জনগণের সমাগম দেখা গেছে। গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওয়ার্ডের সপুরা, শালবাগান, ছয়ঘাটি, পাউবোসহ বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও বাজার এলাকায় এ গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো ছিল।
গণসংযোগকালে মিজানুর রহমান মিনু ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট নিরসন ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। জনগণের সমস্যা জনগণের সঙ্গেই বসে সমাধান করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।
গণসংযোগে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিনু একজন পরিচিত ও ত্যাগী বর্ষীয়ান নেতা। এলাকার মানুষ তার ওপর আস্থা রাখছেন এবং সে কারণেই গণসংযোগে মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। একাধিক ভোটার জানান, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান যিনি নিয়মিত এলাকায় আসবেন, মানুষের কথা শুনবেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান করবেন। মিনুর গণসংযোগ ও বক্তব্যে তারা আশাবাদী হয়েছেন।
গণসংযোগ চলাকালে নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। আসন্ন নির্বাচনে রাজশাহী মহানগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রার্থীর গণসংযোগ ও প্রচারণায় এলাকাজুড়ে নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে।
গণসংযোগ চলাকালে নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। আসন্ন নির্বাচনে রাজশাহী মহানগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রার্থীর গণসংযোগ ও প্রচারণায় এলাকাজুড়ে নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে।
গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শাহমখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার, ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মুনজু, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর, মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন ইকবাল, সাবেক কাউন্সিলর শামসুন্নাহার, মহিলাদল নেত্রী লাভলী, মহিলাদল নেত্রী শিউলি, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হাসান জাহিদ, ১৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক বিপ্লব, যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শিমুল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শুভ, মামুন ও সোহাগসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিকে গতকাল নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে মিছিল করেন ও বিভিন্ন স্লোগান দেন।
রাজশাহী সদর আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর নগরের সাহেববাজার এলাকা থেকে সকালে গণসংযোগ শুরু করেন। এসময় তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার দাবি জানান। তিনি ভোটারদের কাছি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান কোরআান তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে গোদাগাড়ীর ডাইংপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয় তার প্রচারণা। নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও লিফলেট বিতরণ করেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি দোয়া কামনা করেন তিনি।
এ সময় নির্বাচনে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, জয় পরাজয়ের মালিক আল্লাহ। আমরা আশাবাদী। যদিও এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু আমরা কিছুটা শঙ্কার মধ্যে রয়েছি। কারণ নির্বাচনে একটা দলকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তারা দোয়া মাহফিলের নামে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পেয়েছে।
রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দীন গোদাগাড়ীতে প্রচারণার শুরুতে নির্বাচনি জনসভায় বলেন, এই নির্বাচন ভন্ডুল করতে একটি চক্র কাজ করছে। এদিকে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হবে।
রাজশাহী -৩ পবা-মোহনপুর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন দামকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা করেন। সেই সাথে নির্বাচনি অফিস উদ্বোধন করেন। তিনি পাড়া মহল্লার মধ্যে গেলে সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ ফিরে আসে। এলাকাবাসী তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে। তিনি সবার কথা সুন্দরভাবে শ্রবণ করেন। সেই সাথে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে আছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেছে। এরপর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে কোন কাজ করেনি। তারা প্রতিটি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স করেছে।
প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক এনামুল হক কনক, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শওকত আলী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমনসহ পবা ইউনিয়নের বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ।
এদিকে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার প্রথম দিনেই জনগণের সুস্থতা, নিরাপত্তা ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করে গণসংযোগ শুরু করেছেন রাজশাহী-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। একটি শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও নৈতিক রাজনীতির অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। সকালে নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত নির্বাচনিী= প্রচারণা কার্যালয়ের সামনে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের জনগণ, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ কামনা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন নওহাটা পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির সুজা উদ্দিন আহমেদ। দোয়া অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাত শেষে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন। নওহাটা কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে নওহাটা বাজার, থানার মোড়, ব্রিজঘাটসহ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। গণসংযোগকালে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন এবং ভোটারদের কাছে তাঁর নির্বাচনি বার্তা পৌঁছে দেন। এ সময় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।










