ঢাকা | জানুয়ারী ২২, ২০২৬ - ১:০০ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে প্রতীক পেলেন প্রার্থীরা, প্রচারণা শুরু

  • আপডেট: Wednesday, January 21, 2026 - 10:05 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ আসনসহ বিভাগের অন্যান্য জেলার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩০ জন প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন আচরণবিধি মেনে আজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়।

এতে সকল প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ দেন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কার্যক্রমের শুরুতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নির্বাচন আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

পরে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো, সভা-সমাবেশ ও মিছিল সংক্রান্ত বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

প্রতীক বরাদ্দে রাজশাহীর ছয়টি আসনে ২৬ জন দলীয় প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দলীয় প্রতীক পান। পাশাপাশি দুটি আসনের চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ লাভ করেন।

এর মধ্যে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র তরুণ প্রার্থী সালেহ আহমেদ মোটরসাইকেল প্রতীক পান। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক ঘোড়া প্রতীক এবং যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের বর্তমান সহ-সভাপতি ও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ পান। আসনটিতে রায়হান কাওসার নামের আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। গেল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত এই আইনজীবী এবার পেয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীক।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দ চলাকালে রাজশাহী-৪ (বাগমারা), রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) ও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জেলা এনসিপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম সাজু এ প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। প্রতিবাদ শেষে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় তিনি জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ রুখে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে রাজশাহী-১ আসনে চারজন, রাজশাহী-২ আসনে ছয়জন, রাজশাহী-৩ আসনে পাঁচজন, রাজশাহী-৪ আসনে চারজন, রাজশাহী-৫ আসনে সাতজন ও রাজশাহী-৬ আসনে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজ থেকে তারা প্রচারে নামবেন।

প্রতীক প্রাপ্তরা হলেন রাজশাহী- ১ আসনে মির মো: শাহজাহান- গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি) ট্রাক, মোঃ আব্দুর রহমান- আমার বাংলাদেশ পাটি (এবি পার্টি) ঈগল, মোঃ মুজিবুর রহমান -বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, মোঃ শরীফ উদ্দীন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ধানের শীষ।

রাজশাহী-২ আসনে মু. সাঈদ নোমান- আমার বাংলাদেশ পাটি (এবি পার্টি) ঈগল, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, মোহাম্মদ সামছুল আলম- নাগরিক ঐক্য কেটলি, মোঃ মিজানুর রহমান মিনু -বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ধানের শীষ, মোঃ মেজবাউল ইসলাম -বাংলাদেশ লেবার পাটি আনারস, সালেহ আহমেদ- স্বতন্ত্র মোটর সাইকেল।

রাজশাহী-৩ আসনে মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ধানের শীষ, মোঃ আফজাল হোসেন- জাতীয় পাটি লাঙ্গল, মোঃ আবুল কালাম আজাদ- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, মোঃ ফজলুর রহমান -ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা, মোঃ সাইদ পরভেজ আমজনতার দল প্রজাপতি।

রাজশাহী-৪ আসনে ডি. এম. ডি জিয়াউর রহমান- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ধানের শীষ, মোঃ আব্দুল বারী সরদার- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, মোঃ তাজুল ইসলাম খান- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা, মোঃ ফজলুল হক -জাতীয় পাটি লাঙ্গল।

রাজশাহী-৫ আসনে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ধানের শীষ, মনজুর রহমান- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, মোঃ আলতাফ হোসেন মোল্লা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পাটি (বিএসপি) একতারা, মোঃ ইসফা খায়রুল হক -স্বতন্ত্র ঘোড়া, মোঃ রুহুল আমিন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা, মোঃ রায়হান কাওসার- স্বতন্ত্র মোটর সাইকেল, রেজাউল করিম- স্বতন্ত্র ফুটবল।

রাজশাহী-৬ আসনে মোঃ আবু সাইদ চাঁদ- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ধানের শীষ, মোঃ আব্দুস সালাম সুরুজ- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা, মোঃ ইকবাল হোসেন- জাতীয় পাটি লাঙ্গল এবং মোঃ নাজমুল হক- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা।

পাবনার পাঁচ আসনে প্রতীক বরাদ্দ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে জেলার রিটানিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। জেলার রিটানিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা তিনটি আসনের ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন। উল্লেখ, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পাবনা-১ ও ২ আসনের জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ দুই আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে দেশের অন্য আসনগুলোর মতো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই। নতুন তফসিল অনুযায়ী, ১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৫ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি। ২৭ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নির্বাচনি প্রচার।

সিরাজগঞ্জের ৬ আসনে প্রতীক বরাদ্দ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনের ৩৫জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে শহিদ শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এ প্রতীক বরাদ্দ করেন। প্রতীক পেয়ে প্রার্থী ও তার সমর্থকরা উচ্ছসিত প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৫ জন, ২ আসনে ৬ জন, ৩ আসনে ৪ জন, ৫ আসনে ৬ জন ও ৬ আসনে ৯ জন প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামি আন্দোলন, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, গনঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, নাগরিক ঐক্য, ইসলামী ফ্রন্ট, আমজনতার দল ও জেএসডি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনে প্রতীক বরাদ্দ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনে ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদ প্রার্থী ও প্রার্থীর প্রতিনিধিদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন। সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং অফিসার শাহাদাত হোসেন মাসুদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান মিঞা (ধানের শীষ), জামায়াতের কেরামত আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল হালিম (ছড়ি), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নবাব শামসুল হোদা (মোমবাতি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মনিরুল ইসলাম (হাতপাখা)’র হাতে প্রতীক তুলে দেন।

এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট) আসনে বিএনপির আমিনুল ইসলাম (ধানের শীষ) জামায়াতের ড. মিজানুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাদেকুল ইসলাম (কাস্তে) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থীর ইব্রাহিম খলিল (হাতপাখা) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপির হারুনুর রশীদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর নূরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জেএসডি’র ফজলুর ইসলাম খাঁন সুমন (তারা), গণ অধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম (ট্রাক) ও ইসলামী আন্দোলনের মনিরুল ইসলাম (হাতপাখা)’র হাতে প্রতীক তুলে দেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।

নওগাঁ-১ আসনে প্রতীক বরাদ্দ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৬ নওগাঁ-১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষে এই আসন থেকে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম। অপরদিকে গতকাল বুধবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই ৫ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ), জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা: ছালেক চৌধুরী (মোটরসাইকেল), ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মাও: আব্দুল হক শাহ্ (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আকবর আলী কালু (লাঙ্গল)।