ঢাকা | জানুয়ারী ২২, ২০২৬ - ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

চলনবিল সেজেছে নববধূর সাজে

  • আপডেট: Wednesday, January 21, 2026 - 9:52 pm

চলনবিল প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে বিস্তীর্ণ চলনবিলে সরিষার ফুলে বাতাসের দোলায় দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। হলুদ শাড়ি পরে যেন লাখ লাখ নববধূ বিচরণ করছে দিগন্তজোড়া চলনবিলের ফসলের মাঠে। নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনাসহ চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় ফসলের মাঠ পর পর সরিষার হলুদে ছেয়ে গেছে। মাঠের দিকে তাকালে মনে হয়, দিগন্তজুড়ে হলুদ গালিচা বিছানো হয়েছে। চলতি মৌসুমে সরিষা চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বর্ষার কারণে কমানো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ১৮৭ হেক্টর জমিতে কম সরিষা চাষ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সরিষা চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিলের দিকে তাকালে ফসলের মাঠ যেন হলদে সাজে সেজেছে। মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত ফসলের মাঠ। সরিষার ফুলে বাতাসের দোলায় দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। সরিষা চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখে কৃষকরা আরও আগ্রহী হচ্ছেন। কম সময়ে ফলন, কম খরচ ও বেশি লাভের কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা সরিষা উৎপাদনে উৎসাহী। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এতে কৃষকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশে ভোজ্য তেলের ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কৃষি প্রণোদনার আওতায় চলতি মৌসুমে ২৯৫০ জন কৃষককে এক কেজি করে উন্নত জাতের সরিষার বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-নালা তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের পলি মিশ্রিত জমি সরিষা চাষের জন্য উপযোগী। সেচ, সার ও অন্যান্য খরচ কম হওয়ায় সরিষা চাষে লাভ বেশি। এ ছাড়া সরিষার তেল সয়াবিন তেলের তুলনায় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ জমিতে কৃষকরা সাধারণত দুটি ফসল উৎপাদন করেন; তবে ওই জমিতে সরিষা চাষ করলে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব। এতে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় পাশাপাশি ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এজন্য তারা কৃষকদের বিনামূল্যে সরিষার বীজ ও সার দিয়ে উৎসাহিত করেছেন।

কৃষকরা জানান, আমন কাটা-মাড়াইয়ের পর ৩-৪ মাস জমি পতিত থাকে। এই সময়ে পতিত জমিতে সরিষা চাষ করে অতিরিক্ত লাভ নেয়া যায়। সরিষা কেটে জমিতে পুনরায় বোরো আবাদ করা যায়। জমিতে সরিষা রোপণ থেকে পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস। প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ১৫০০-২০০০ টাকা। এক বিঘা জমিতে ৫–৬ মণ সরিষা উৎপাদন হয়। সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় বিক্রির অর্থ দিয়ে বোরো চাষের খরচ করা যায়। খুবজীপুর ইউনিয়নের কৃষক মোজাহার, ইয়াকুব ও মফিজউদ্দিন জানান, ‘আমরা দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে দুই হাজার টাকা। সরিষার খেতে গেলে মন আনন্দে ভরে যায়।’

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘চলনবিলসহ গুরুদাসপুর উপজেলায় এ বছর ৯৫০  হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ১৮৭  হেক্টর কম চাষ হয়েছে। পার্শ্ববর্তী তারাশ উপজেলায় বন্যার পানি নামার কারণে সরিষা কম হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ ভোজ্য তেল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আমরা কাজ করছি। দেশের চাহিদা অনুযায়ী তেল উৎপাদন কম হওয়ায় একটি লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছি। আমরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তৈলাক্ত ফসলের ৫০% দেশেই উৎপাদন করতে চাই। এজন্য কৃষকদের সরিষা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং দুই ফসলি জমি থেকে তিন ফসলি করার জন্য প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।’