ঢাকা | জানুয়ারী ২১, ২০২৬ - ৫:৩৫ পূর্বাহ্ন

তানোরে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু

  • আপডেট: Wednesday, January 21, 2026 - 12:37 am

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে গলায় চাদর পেঁচিয়ে নিহত এক ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে রহস্যর সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ব্যক্তির নাম মিল্টন বেশরা (৪০)। তিনি উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) কচুয়া আদিবাসীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে তার রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দাদের মাঝে বইছে মুখরোচক নানা গুঞ্জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জানুযারি দুপুরে নিজ বাড়িতে নিচু বাঁশের খুটিতে গলায় চাদর পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে মিল্টন বেশরা। প্রতিবেশীরা বলছে, ঘরে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান থাকার পরেও দিনের বেলায়, গায়ের চাদর দিয়ে নিচু বাঁশের৷ খুটিতে গলায় ফাঁস দিয়ে কিভাবে আত্মহত্যা করলো কেউ টের পেলো না। আবার গায়ের চাদর দিয়ে কি গলায় ফাঁস দেয়া যায় ?

এছাড়াও যে উচ্চতায় সে গলায় ফাঁস দিয়েছে সে উচ্চতায় কারো মৃত্যু হবে না। কারণ তার দেহ নামানোর সময় দুই পা বাকা হয়ে মাটিতে স্পর্শ করে ছিলো। তাই এ ঘটনা অবশ্যই অধিকতর তদন্তের দাবি রাখে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশী এ্যাঞ্জেল সরেন (২৬) এগনেস শিউস হেমরম (২৮) বলেন, মিল্টন সুস্থ মানুষ তার প্রায় কুড়ি বিঘা ফসলি জমি রয়েছে তার আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ নাই। তারা বলেন, কচুয়া গ্রামের সোনা কাজি ও তরিকুল ইসলাম তাদের বন্ধুদের নিয়ে প্রায় প্রতিরাতে হাঁসের মাংস ও চোলাই মদ নিয়ে মিল্টনের স্ত্রীর উপস্থিততে তার বাড়িতে আসর বসাতেন।

অথচ তার বাড়িতে তার স্ত্রী, ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যা, ৮ বছরের শিশু স্নিনিদ্ধ ও ৩ বছরের শিশু শিশির রয়েছে। ফলে এটা মিল্টন মেনে নিতে পারতেন না।এটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রায় প্রতি রাতেই মিল্টনের সঙ্গে তার স্ত্রী ও সোনা কাজির বাকবিতন্ডা হতো। এবং প্রায় সময় তারা মিল্টনকে শাসন গর্জন করতো। মিল্টনের মৃত্যুর পিছনে এটি একটি কারণ হতে পারে।

এর পাশাপাশি মিল্টনের কিছু জমি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ ছিল।এসব জমির ঝামেলা দেখভাল করতো তরিকুল। এসব বিবেচনায় মিল্টনের মৃত্যুর সঙ্গে তার স্ত্রী, সোনা কাজি ও তরিকুলের হাত থাকতে পারে বলে গ্রামবাসী মনে করছে। প্রায় সময় মিল্টনের বাড়িতে তারা গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করতেন। তার মৃত্যুর আগের রাতেও মিল্টনের সঙ্গে তাদের ব্যাপক বাকবিতন্ডা হয়।

এ বিষয়ে মিল্টনের স্ত্রী সাবিনা হেমরম বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। তিনি বলেন, সোনা কাজি ও তরিকুল মাঝে মধ্যে তার বাড়িতে নেশাপানি করতো এটা সত্যি। মৃত্যুর সময় তার পা মাটিতে ঠেকেছিল এই উচ্চতায় কি আত্মহত্যা করা যায় এমন প্রশ্নে তিনি কিছু অস্বস্তি প্রকাশ করে এদিক-ওদিক তাকিয়ে কোনো সদোত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।

এদিকে প্রতিবেশী সুরেশ হেমরম বলেন, এটা আত্মহত্যা হতে পারে না, তাদের ধারণা তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, জায়গা জমির ঝামেলা নিয়ে তার বাড়িতে মাঝে মাঝে তিনি যাতায়াত করেন সত্যি, তবে তার মৃত্যুর রহস্যে উদঘাটন হোক তিনিও সেটা চান।