ঢাকা | জানুয়ারী ২১, ২০২৬ - ৮:৩১ পূর্বাহ্ন

আগুনে পোড়া সেই গৃহবধূর লাশ দাহ সম্পন্ন

  • আপডেট: Wednesday, January 21, 2026 - 12:28 am

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে আগুনে পোড়া এক সন্তানের জননী বাসন্তী রাণী বর্ষা (২৬) নামের এক গৃহবধূর লাশ ময়না তদন্ত শেষে দাহ সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাসন্তী রাণীর শ্বশুর বাড়ির এলাকায় পৈইদীঘি নামক শ্মাশানে পারিবারিকভাবে তার দাহ সম্পন্ন করা হয়। গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় তুঙ্গে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা এটা কি হত্যা না আত্নহত্যা।

বাসন্তী রাণীর পরিবার বলছে তাকে হত্যা করে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। মৃত্যুর সময় বাসন্তী রাণীর প্রায় শত ভাগ শরীর আগুনে পুরে যায়। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক টিমের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থাও ছায়া তদন্ত হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

তারা বলছে, খুব শিঘ্রই এই লোমহর্ষক ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তকারী সদস্যরা ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত সব কিছু তদন্তধীন রাখতে চায়।

জানা গেছে, উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কৃষ্ণবন্ধু ওরফে মুন্টুর ছেলে উৎপল চন্দ্র গত ১০ বছর আগে আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের সুবর্নকুন্ড গ্রামের রঘুনাথ চন্দ্রের মেয়ে বাসন্তী রাণী বর্ষাকে (২৬) বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে অভাব অনাটনের সংসারে কোনো রকমে সংসার চললেও অভাব পিছু ছাড়ে না। সংসার চলাকালীন সময়ে তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। যার বয়স বর্তমান ৩ বছরের মতো। স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে একটু ভালো থাকার আশায় মৃত বাসন্তীর স্বামী উৎপল চন্দ্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে যায়। এর পর সে কয়েকবার ছুটিতে বাড়ি আসে।

সম্প্রতি প্রায় ২৭ দিন আগে ছুটি কেটে আবার কুয়েতে চলে যায়। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উৎপলের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাসন্তী রাণীর মৃত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে মৃত বাসন্তী রাণীর মা বিশুকা রাণী বাদী হয়ে সোমবার রাতে রাণীনগর থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করলে মঙ্গলবার সকালে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

বাসন্তী রাণীর মামা গোপেস চন্দ্র জানান, আমার ভাগনীকে মেরে ফেলে আগুনে পুরে দেয়া হয়েছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।

মামলা তদন্তকারি কর্মকর্তা রাণীনগর থানার এসআই মামুন হোসেন জানান, বাসন্তী রাণীর মৃত্যু আমার কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে। তার পোড়া মৃত দেহ যে খানে পাওয়া গেছে তার পাশে রান্নার চুলা এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত খড়গুলো যে ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাতে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এই মৃত্যুটি রহস্যে ঘেরা। বাসন্তীর শ্বশুর যদিও দাবি করছে আমার ছেলে বউ ভাত গরম করতে আগুন লেগে মারা যেতে পারে। বিষয়টি তদন্তধীন।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বাবলু চন্দ্র পাল জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে পোড়া বাসন্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে একটি ইউডি মামলা করলে লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে আসলেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।