নির্বাচনে পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হবে জনগণ যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে: আইজিপি
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীল, পেশাদার ও আইনানুগ আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, নির্বাচন চলাকালে পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হবে জনগণ যেন নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করা। আইজিপি স্পষ্টভাবে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পরিস্থিতি অনুযায়ী যতটুকু বলপ্রয়োগ একান্ত প্রয়োজন, কেবল ততটুকুই প্রয়োগ করতে হবে। তিনি আরও জানান, বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত সব নির্দেশনা সিআরপিসি এবং পুলিশ রেগুলেশনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
গতকাল শনিবার রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে রাজশাহীতে বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বাহারুল আলম, বিপিএম উপরোক্ত কথা বলেন। বিশেষ কল্যাণ সভায় তিনি রাজশাহী রেঞ্জ, আরএমপি ও রাজশাহী বিভাগের সকল স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিভিন্ন আবেদন ও মতামত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশেষ কল্যাণ সভায় আইজিপি বলেন, নির্বাচনের আগে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো শোনা তাঁর দায়িত্বেরই অংশ। সে কারণেই গত বছরের পয়লা নভেম্বরের পর নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও এই মুখোমুখি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে আইন প্রয়োগে নতুন কোনো বাধা বা নিষেধাজ্ঞা নেই। আইন যেমন আছে, তেমনই থাকবে এবং সেই আইনের মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ ভয় দেখালে বা অবৈধ সুবিধার প্রস্তাব দিলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের কাজ হবে কমিশনের অধীনে গঠিত এনফোর্সমেন্ট ও ইনকোয়ারি কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা। তিনি ভোটের দিন সব ইউনিটকে সক্রিয় রেখে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
সভায় ধর্মীয় উগ্রবাদ ও চরমপন্থার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন আইজিপি। তিনি জানান, সম্প্রতি কিছু বিপজ্জনক বিস্ফোরক ও পরিকল্পনার আলামত পাওয়া গেছে। যদিও এসব গোষ্ঠী আগের মতো সক্রিয় নয়, তবুও অস্ত্র উদ্ধার, তল্লাশি ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি।
বিশেষ কল্যাণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মো: জিল্লুর রহমান এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি। সমাপনী বক্তব্য দেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান। কল্যাণ সভায় রাজশাহী রেঞ্জ, আরএমপি ও রাজশাহী বিভাগের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ কল্যাণ সভাটি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাসের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।











