ঢাকা | জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ - ৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

কেশরহাটে গর্ভবতী গরু হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • আপডেট: Thursday, January 15, 2026 - 12:00 am

মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে সম্প্রতি গর্ভবতী মা-গরু হত্যা ও তার মাংস বিক্রয়ের ঘটনার প্রতিবাদে এবং কেশরহাটের ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটায় কেশরহাট যাত্রী ছাউনির সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বন্ধু মহল ট্রাস্ট ও কেশরহাটের সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গর্ভবতী পশু জবাই এবং সেই মাংস বাজারে বিক্রি করা মানবিকতা, নৈতিকতা ও আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় কেশরহাট বাজারের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরাও সামাজিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। তারা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। কর্মসূচি শেষে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপিতে মোহনপুর থানাধীন কেশরহাট পৌর বাজার ও ৬টি ইউনিয়নের বাজারে পশু জবাই ও কাঁচা গোশত ক্রয়-বিক্রয়ে ক্রেতা সেবা নিশ্চিত, হাটবাজারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং গো-মাংস বিক্রয়ে স্বচ্ছতা আনতে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-নির্দিষ্ট স্থানে গরু, মহিষ ও ছাগল জবাই করা এবং জবাইস্থলের বর্জ্য অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা; পশু জবাই কার্যক্রম সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা; জবাইয়ের আগে পশু ডাক্তার দ্বারা পশু নিরীক্ষা এবং জবাইয়ের সময় প্রশাসনিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন অথবা মৌলবীর মাধ্যমে জবাই সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত পশু জবাই বন্ধের দাবি জানানো হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে পশু জবাই সম্পন্ন করতে হবে এবং তা জনসম্মুখে হতে হবে। কেশরহাটসহ মোহনপুর থানাধীন সমস্ত চাটিতে কতটি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হবে, সে তথ্য আগের দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে রেজিস্ট্রেশন করার দাবিও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে আলোচিত মা-গাভী ও অসুস্থ পশু জবাই, পরিপক্ব বাছুর হত্যা এবং এসব পশুর গোশত বিক্রি ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল ও জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের জনসম্মুখে ভুল স্বীকার করে আইন মেনে মুচলেকা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্যবসায়ীরা সমাজের শত্রু নন। সঠিক নিয়ম ও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করলে বাজারের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকবে। কেশরহাট বাজার সবার এবং এর ভাবমূর্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার বলে তারা মত প্রকাশ করেন।