ঢাকা | জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ - ৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

ভবিষ্যতের দেশ গঠনের জন্য গণভোট: আলী রীয়াজ

  • আপডেট: Tuesday, January 13, 2026 - 1:22 am

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, গণভোট আসলে হ্যাঁ কিংবা না এর ভোট। বাংলাদেশে ইতঃপূর্বেও বেশ কয়েকবার গণভোট হয়েছিল। তবে এবারের গণভোট সেগুলোর থেকে আলাদা। এবারের গণভোট ভবিষ্যতের দেশ গঠনের জন্য। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবেন যে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অনুমতি দেবেন কিনা।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে মতবিনিময়য় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীদের জনগণকে গণভোটে উদ্বুদ্ধ করতে নির্দেশনা প্রদান করে আলী রীয়াজ বলেন, আমি বিশ্বাস করি মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। জনগণ পরিবর্তন না চাইলে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান হতো না। এর আগে বহুবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আমরা প্রত্যাশা করেছি পরিবর্তনের। এবার অনেক প্রাণের বিনিময়ে, অনেক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে আমাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। এর মাধ্যমে সাফল্য অবশ্যই অর্জিত হবে এবং ভবিষ্যতে অগ্রগতির পথ উন্মুক্ত হবে। কাজেই এ সুযোগ যেন আমরা হেলাফেলা না করি। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মত নিয়েই বহুমাত্রিক বাংলাদেশ। এখানে মতের পার্থক্য থাকবেই, কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে আমরা কী রকম ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ চাই। জনগণকে জানাতে হবে যে, দেশের চাবি তাদের হাতে। দরজাটা খুললেই সামনে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নদীর স্রোত বিভিন্ন দিকে থাকলেও তা মোহনায় এসে মিলিত হয়। সেই মোহনা হলো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র। এসময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংসদের উচ্চকক্ষ, গণপ্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি, তিনটি পিএসসি গঠন, প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদ ইত্যাদি বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের জবাব দেন।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ-এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য মনির হায়দার। এছাড়াও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক ও আরএমপি কমিশনার জিল্লুর রহমান বক্তব্য রাখেন। এসময় রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা ও উপজেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভার পাশাপশি গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের অংশ হিসেবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

এর আগে দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে যোগ দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

সম্মেলনে তিনি বলেন, অনেকেই বলেন, গণভোটের কোনো মার্কা নেই। কিন্তু গণভোটের মার্কা রয়েছে- হ্যাঁ হলে টিক চিহ্ন আর না হলে ক্রস চিহ্ন। তাই চাইলে পরে ঠিক, সিল দিন টিক (হ্যাঁ)। তিনি আরও বলেন, সামনের বাংলাদেশের দরজা খোলার চাবি আপনাদের হাতে। দরজাটা খুলবেন কি খুলবেন না সেটাই সবাইকে উৎসাহিত করুন। সাদা ব্যালটে মন খুলে যাকে পছন্দ ভোট দিন কিন্তু গোলাপি ব্যালটে টিক চিহ্নতে ভোট দিন, কারণ এটা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। সেই ভবিষ্যৎ দায়িত্বটা আমরা সবাই মিলে পালন করবো, আশা করি আমরা সফল হব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান-এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য মনির হায়দার, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং আরএমপি কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান। এসময় রাজশাহী বিভাগের ইমাম, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।