ঢাকা | জানুয়ারী ১১, ২০২৬ - ১০:৩৮ অপরাহ্ন

রাজশাহীর আলু ও বোরো চাষিরা যে কারণে শঙ্কিত

  • আপডেট: Sunday, January 11, 2026 - 1:00 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর আলু ও বোরো চাষিরা এখন আবাদ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবত প্রতিকূল আবহাওয়ায় এখানকার আলু ও বোরো চাষিরা লেট ব্লাইট ও কোল্ড ইনজুরির আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

চাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখন আলু ও বোরো চাষের ভরা মৌসুম। আবাদ নিয়ে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলেন, কুয়াশা না থাকা এবং দীর্ঘস্থায়ী শীত আলু ও বোরোর জন্য ভালো। কিন্তু হটাৎ করেই কয়েকদিন যাবত রাজশাহীতে প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। শৈতপ্রবাহের সাথে থাকছে ঘন কুয়াশা। গতকাল শনিবারও রাজশাহীতে ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে আলুতে লেট ব্লাইট এবং বোরোর বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় চাষিরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা ফসল রক্ষায় আলুতে নিয়মিত নানা প্রতিষেধক স্প্রে করছেন।

পবার বড়গাছীর নওদাপাড়ার আলুচাষি আলাউদ্দিন আহম্মেদ জানান, এবার তিনি ৩ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। এখন পর্যন্ত আবাদ ভালো আছে। তার এলাকার অন্যান্য চাষিদের আবাদও ভালো আছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে আলুর রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য তারা জমিতে নিয়মিত বালাইনাশক স্প্রে করছেন। কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, চাষিরা এখন আলু আবাদে ব্যস্ত। আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও আলু আবাদ এখন পর্যন্ত ভালো আছে। কোন এলাকা থেকে এখনও রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া ঠিক হলে কোন সমস্যা হবে না। তাছাড়া কৃষি কর্মকর্তারা পাশে থেকে আলু চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া বোরোর বীজতলারও যত্ন নিচ্ছেন চাষিরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ২৮০ হেক্টরে। গত বছর এখানে আবাদ হয়েছিল ৩৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। বোরো চাষের জন্য রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ২ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে।

এদিকে দেশজুড়েই বর্তমানে বিরাজ করছে তীব্র শীত। অনেক জেলায় বয়ে চলেছে শৈত্যপ্রবাহ। আর তাতে জনজীবন বিপর্যয়ের পাশাপাশি রবিশস্যের আবাদও ক্ষতির শঙ্কায়। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র শীতে বিবর্ণ হতে শুরু করেছে বোরো ধানের বীজতলা। তাছাড়া সরিষা, আলু, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ নানা রবিশস্যই এখন মাঠে মাঠে। কিন্তু এখন কুয়াশায় সূর্যের দেখা মিলছে না। আর রাতের শিশির আর দিনের ঘন কুয়াশায় ঝুঁকিতে পড়েছে ওসব ফসল। তবে বোরো ধানের বীজতলা ও আলুখেতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ফসলে রোগবালাই দীর্ঘ সময় কম তাপমাত্রা ও কুয়াশা জমে থাকলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাতে ফসলের ফলন কমার পাশাপাশি গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এবারের শীত ওই আশঙ্কাকে তীব্র করছে। টানা শীত এবং ঘন কুয়াশা কৃষিতে হুমকি বাড়াচ্ছে। এই মৌসুমে দেশে ২ দশমিক ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ৪ দশমিক ৬৭ লাখ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৮৭ শতাংশ জমিতে রোপণ শেষ হয়েছে। কিন্তু তীব্র শীতে বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের বীজতলা ইতিমধ্যে বিবর্ণ হতে শুরু করেছে। ধানের চারা ঠিকমতো গজাচ্ছে না। কোথাও চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, কোথাও পচন ধরছে।

সূত্র জানায়, শীতে বোরো বীজতলা নষ্ট হলে কৃষকের খরচ বাড়বে। কারণ অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজতলায় চারা পোড়া রোগ ও থ্রিপস পোকার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বীজতলায় ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা জরুরি। তাতে মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি সুষম সার ব্যবস্থাপনায় চারার স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব। আর সূর্যের আলোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আলুর উৎপাদনও। কারণ আলুর রোগ বালাইয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। টানা তিন দিন সূযের দেখা না পেলে আলুতে লেট ব্লাইট (নাবিধসা) রোগ দেখা দেয়। ওই রোগে আলুগাছ দ্রুত মরে যায়। তাছাড়া তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা শীতকালীন সবজি ও সরিষাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আলু ও বোরোর বীজতলার জন্য এ ধরনের আবহাওয়া মোটেও অনুকূল নয়। বর্তমানে আলুতে টিউবার ফরমেশন চলছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে আক্রমণ হলে ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে ফলন।

এদিকে এ প্রসঙ্গে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন জানান, মাঠে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সারাদেশের কর্মকর্তাদের কৃষকের পাশে থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সব সময়ই প্রণোদনার ব্যবস্থা আছে।