ঢাকা | জানুয়ারী ১১, ২০২৬ - ১০:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মাল্টা চাষে সাড়া ফেলেছেন চারঘাটের উদ্যোক্তা হানিফ

  • আপডেট: Sunday, January 11, 2026 - 12:33 am

মোজাম্মেল হক, চারঘাট থেকে: চাকরির পেছনে না ছুটে “হানিফ এগ্রোফার্ম ও নার্সারি” প্রতিষ্ঠা করে মাল্টা চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের আমেদুল মন্ডলের ছেলে হানিফ মন্ডল (৩৫)। হানিফ মন্ডল একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হয়ে গড়ে তোলেন হানিফ অ্যাগ্রোফার্ম ও নার্সারি। ২০১৯ সালে বাড়ির পাশেই ১৬ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ‘হানিফ মন্ডল অ্যাগ্রো ফার্ম’। ফার্মটি এখন পর্যন্ত মাল্টার জন্যই পরিচিতি পেয়েছে ব্যাপক হারে। তবে বিভিন্ন প্রজাতির মাল্টা ছাড়াও চায়নিজ কমলা, বারোমাসি কতবেল, পেয়ারা, আনার ফল, বারোমাসি আমড়া ও আমের বাগান রয়েছে। পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে রবিশস্যও আবাদ হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য এখান থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলগাছের চারা নেন কৃষক ও নতুন উদ্যোক্তারা।

উদ্যোক্তা হানিফ মন্ডল এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে “হানিফ এগ্রোফার্ম ও নার্সারি” নামে উদ্যোগ শুরু করে প্রথমে স্বল্প পরিসরে মাল্টা ও কমলা চাষ করেন। বর্তমানে প্রায় ২৬ বিঘা জমিতে মাল্টা, আমসহ বিভিন্ন ফল চাষ করছেন। তিনি বলেন, শুরুতে ভয় ছিল গাছ হবে তো? ফল আসবে তো? কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শে বাগান পরিচর্যা করেছি। এখন প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৮০ থেকে ১০০ কেজি মাল্টা পাচ্ছি। তার বাগানে রয়েছে বারি-১, ইয়োলো মাল্টা, ভিয়েতনামী মাল্টা, মরোক্কো মাল্টা, চাইনিজ কমলা, দার্জিলিং কমলা ও ভেরিকেট মাল্টা। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে কাশ্মিরি কেনু, জাপানি সিডলেস মাল্টা ও পাওকেনু-১ জাতের মাল্টা। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় মাল্টা চাষে লাভ বেশি হচ্ছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন হানিফ। চলতি মৌসুমে তার বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হানিফের এই সাফল্য এখন এলাকায় আলোচনার বিষয়। আশেপাশের জেলা থেকেও মানুষ তার বাগান ঘুরে দেখছেন, কেউ কেউ চারা ও ফল কিনছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বাগান থেকে সরাসরি মাল্টা সংগ্রহ করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, চারঘাটের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। হানিফের মতো অনেক কৃষক এখন মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আমরা প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সার দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতে মাল্টা চাষে আরও সাফল্য আসবে বলে আশা করছি। বলে তিনি জানান জানান।