ঢাকা | জানুয়ারী ১২, ২০২৬ - ৫:১৮ পূর্বাহ্ন

চারঘাটে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি পণ্য

  • আপডেট: Sunday, January 11, 2026 - 10:12 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে বেকারী। নেই বিএসটিআই লাইসেন্স, নেই অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান। অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব বেকারিতে কাপড় ও কাঠের রং ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে বিস্কুট, পাউরুটি, কেক ও মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাবার। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণেও রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। অনুমোদন ছাড়াই এসব অবৈধ বেকারি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদের বিরুদ্ধে কার্য্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শুধু জরিমানা করেই যেন প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, চারঘাট উপজেলার প্রায় ২০টি বিস্কুট ফ্যাক্টরী (বেকারী) রয়েছে। এদের মধ্যে সরদহ এলাকার ইসলামিয়া বেকারি ও সদরের বাঁধন বেকারি নামে মাত্র দুটি বেকারীর বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন রয়েছে। অন্য ১৮টি বেকারীর নেই কোন অনুমোদন। উপজেলার নন্দনগাছীর মিলন বেকারি, বালুদিয়াড়ের মামা-ভাগনে বেকারি, কালাবিপাড়ার ইয়াসিন বেকারি, হাবিবপুরের রিফাত বেকারি, শলুয়ার পুষ্টি বেকারি ও সদরের সবুজ বেকারি। এসব বেকরীর পণ্যের প্যাকেটে বিএসটিআই সিল ও লাইসেন্স নম্বর দেওয়া থাকলেও কোনো বেকারিতেই এগুলোর প্রমাণপত্র নেই। অনুমোদনহীন কারখানাগুলো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সব ধরনের বেকারিপণ্য বাজারজাত করছে। এসব বেকারীর কর্মচারীরা হাতে গ্লাভস ছাড়াই ময়দা পিষছেন। কেউ এক হাতে সিগারেট ফুঁকছেন, অন্য হাত দিয়ে কাজ করছেন। খোলা তেলভর্তি ড্রামের ওপর মাছি ভনভন করছে। কারাখানায় ছড়িয়ে আছে ইঁদুর ও তেলাপোকার বিষ্ঠা। নন্দনগাছীর মিলন বেকারিতে দেখা যায় খালি গায়ে আটা-ময়দার স্তূপে দাঁড়িয়ে ময়দা মাখতে। কারও শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কেক ফেরত এনে ড্রাই কেক বানানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ বেকারির নেই ট্রেড লাইসেন্স। এছাড়া নেই বিএসটিআই, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ, স্যানিটারি ও ট্রেডমার্ক ছাড়পত্র। ফলে তদারকির অভাবে উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে বেকারি। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এসব খাদ্য মানবদেহের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।

চারঘাট সহকারী কমিশনার (ভুমি) মিজানুর রহমান জানান, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো বেকারি পণ্য উৎপাদন বা বাজারজাত করতে পারবে না। এসব বেকারির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরপরেও তারা তাদের অবৈধ কার্য্যক্রম অব্যাহত রাখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।