ঢাকা | জানুয়ারী ১০, ২০২৬ - ১১:১১ পূর্বাহ্ন

তানোরে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ

  • আপডেট: Saturday, January 10, 2026 - 12:15 am

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে আলুর সবুজ পাতার মাঝে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহের ম-ম গন্ধে জনসাধারণ মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহে উপজেলার দিগন্ত মাঠ ভরে উঠেছে। স্রোতের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সুগন্ধ আর এক অপরূপ দৃশ্য বিরাজ করছে মাঠগুলোতে। আলুর সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে দেখা দিয়েছে মনোমুগ্ধকর হলুদ ফুল, যা মহান সৃষ্টির এক অনন্য নিদর্শন হয়ে উঠেছে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সরিষা চাষে এবার আগ্রহী হয়েছেন উপজেলার কৃষকরা।

পাঁচন্দর ইউপির কৃষক রবিউল জানান, এবার আমাদের এলাকায় অনেকেই সরিষা চাষ করেছেন। সরিষা চাষে খরচ খুবই কম এবং ফলন ভালো হলে লাভও বেশি। এ ছাড়া সরিষা চাষে ঝুঁকি খুব কম। ওই এলাকার মুন্টু নামের কৃষক দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। প্রতিটি গাছে হলুদ ফুল ফুটেছে। আলম নামের অন্য কৃষক দেড় বিঘা জমিতে এবং লুৎফর এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। সরিষার বয়স বর্তমানে প্রায় ২৫ থেকে ২৮ দিন। তানোর পৌর এলাকার কৃষক শাকিল জানান, এক বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো সরিষা বপন করেছি এবং ভালো ফলন পেয়েছি। প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে হলুদ ফুল। শাকিল আরও জানান, এক বিঘা সরিষা বপনের জন্য ৩০ কেজি ড্যাপ, ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১৫ কেজি পটাশ, ১৫ কেজি জিপসার, দু-একবার কীটনাশক ও সেচের জন্য সাত-আট হাজার টাকা খরচ হয়। এক বিঘা জমিতে ৫-৬ মণ ফলন হলে লাভ বেশি।

বর্তমানে এক মণ সরিষা বাজারে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ৫ মণ ফলন হলে ১৫ হাজার এবং ৬ মণ ফলন হলে ১৮ হাজার টাকা আয় হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, যেসব চাষাবাদে পানির সেচ কম লাগে, সেসব চাষাবাদ করতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। আমাদের উপজেলায় ভূগর্ভে পানির স্তর হুমকির মুখে। যত কম পানি ব্যবহার হবে, আগামীর প্রজন্মের জন্য ততই ভালো হবে। তিনি আরও জানান, এবারে উপজেলার ৬ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সরিষা চাষে রোগবালাই কম হয় এবং কীটনাশকের প্রয়োজনও খুব কম। তিন মাসের মধ্যে সরিষা উত্তোলন করা যায়। এক বিঘায় যে খরচ হয়, তার দ্বিগুণ লাভ পান চাষিরা। বিশেষ করে বাঁধাইড় ইউনিয়নের কৃষকরা আমবাগানেও সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে গাছে গাছে ফুল ফুটেছে এবং আশা করা যাচ্ছে চাষিরা কাক্সিক্ষত ফলন পাবেন। রোগবালাইয়ের সমস্যা দেখা দিলে কৃষি অফিসের মাঠকর্মী অথবা অফিসে এসে পরামর্শ নেয়ার কথাও জানান এই কর্মকর্তা।