ঢাকা | জানুয়ারী ৯, ২০২৬ - ৫:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী চেম্বার উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে, সাক্ষাৎকারে খোকন

  • আপডেট: Thursday, January 8, 2026 - 9:45 pm

স্টাফ রিপোর্টার: সভাপতি নির্বাচিত হলে সদস্যদের ট্যাক্স, ভ্যাট ও ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে জটিলতা নিরসণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি। এসব সমস্যা সমাধানই হবে প্রথম কাজ। দৈনিক সোনালী সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে চেম্বারের সভাপতি প্রার্থী খন্দকার মিজানুর রহমান এ কথা বলেছেন।

উদ্যোক্তা তৈরিতে চেম্বারের ভূমিকা প্রসঙ্গে এই সভাপতি প্রার্থী বলেন, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের মূল ছিলো উদ্যোক্তা তৈরি। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে সে চর্চা থেকে সরে এসেছিল দায়িত্বশীলরা। তিনি নির্বাচিত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তা, ব্যাংক ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সেইসাথে কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসেবে রাজশাহীতে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে দাবি ও চাপ প্রয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, রাজশাহী থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩শ ট্রাক তাজা মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। সেইমাছ প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে মাছগুলি বিদেশী রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। এখাতেও উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।

রাজশাহী বিমানবন্দর আন্তর্জাতিকমান করা প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান খোকন বলেন, তারা নির্বাচিত হলে রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করে কার্গো বিমান চালুর বিষয়ে সরকারকে চাপ দেয়া হবে। যেন কৃষিপণ্য সহজেই বিদেশে রপ্তানি করা যায়। সেইসাথ মৌসুমি ফল আম প্রসেসিং করার সেন্টার তৈরি করতেও সরকারকে অুনরোধ জানানো হবে। যেন এই অঞ্চলের ব্যবসাসিরা কোনো রকমের ভোগান্তি ছাড়াই আম বিদেশে রপ্তানি করতে পারে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি প্রার্থী মিজানুর রহমান খোকন বলেন, এতদিন সমাজের আর্ত মানুষের কথা বলেছি। সভাপতি নির্বাচিত হলে এবার অর্থনীতির সব স্তরে গণতন্ত্রায়ণের কথা বলবো। নিশ্চিত করব। এর মূল লক্ষ্য হলো জনগণের সব শ্রেণি-পেশাকে মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো ছাড়া উদার অর্থনীতির সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। আমলাতন্ত্র ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কমাতে স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হবে। অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসএমই খাতের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি ছাড়া দেশের অর্থনীতির টেকসই ও প্রত্যাশিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।

নগরীর পাঠানপাড়ায় তার বাড়ি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএস (মার্কেটিং) করেছেন। বর্তমানে রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ড ফাউন্ডেশন ও হাসপাতালের জেনারেল সেক্রেটারি দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি আজীবন সদস্য। অনেক আগে থেকেই তিনি সাংগঠনিক কাজের সাথে জড়িত। তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সাবেক পরিচালক ও প্রাক্তন সাধারণ সচিব রাজশাহী জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

আগামী বছর ১৫ জানুয়ারী ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য পরিচালনা পর্ষদ গঠনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারে সম্মিলিত ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদ ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ দুটি প্যানেলে নির্বাচন হচ্ছে। সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- চেম্বারের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি হাসেন আলী, রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান খোকন ও আব্দুল আওয়াল খান চৌধুরি জোতি।