জমি দখলের অভিযোগে নগরীতে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রভাব খাটিয়ে এক ব্যবসায়ী পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, পরিকল্পিতভাবে জমি ও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর অনুরাগ কমিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, তাঁর স্বামী আবুল কালাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য, সোনা মসজিদ স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং একজন ভাটা ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত।
ভুক্তভোগী আরমিনা আক্তার অভিযোগ তুলে বলেন, তাঁর চাচা শ্বশুর সাইফুল ইসলাম নিজেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে পরিচিত হওয়ায় এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি সাগরপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, সাইফুল ইসলামের বাসা সংলগ্ন চার কাঠা জমি আইনগতভাবে ক্রয় করেন আবুল কালাম। তবে জমি বুঝে নেয়ার সময় বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই সময় সাইফুল ইসলাম আবুল কালামের ওপর শারীরিক হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯ ডিসেম্বর ২০২২ সালের ঘটনার সূত্র ধরে গত ২১ ডিসেম্বর গোদাগাড়ী থানায় আবুল কালামের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি পরিবারের। একই দিনে আবুল কালামের মাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের দুই তারিখে তিনি সাইফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী বেলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলাগুলো চলমান থাকা অবস্থায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আরমিনা আক্তার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো, অর্থ দাবি এবং মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, কখনো তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করিনি। সে একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক তথ্য আছে। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান বাশির বলেন, এরকম কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। ভুক্তভোগী চাইলে থানার সহায়তা নিতে পারেন। লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।










