ঢাকা | জানুয়ারী ৭, ২০২৬ - ৪:৪৯ অপরাহ্ন

শীতে কাঁপছে রাজশাহীসহ দেশের ১৫ অঞ্চল

  • আপডেট: Tuesday, January 6, 2026 - 12:00 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীসহ শীতে কাঁপছে দেশ। দেশের ১৫ অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এরমধ্যে এক থেকে দুইটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘ মেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়।

এদিকে, রাজশাহীতে এক দিন বিরতির পর গতকাল সোমবার আবার তাপমাত্রা কমেছে। এর আগে চার দিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহ কিছুটা থেমে গিয়েছিল।

গতকাল সোমবার সকাল ৬টায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা ধীরে ধীরে আরও কমতে পারে।

বাংলাদেশের ১৫ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ভোরে কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে সকালে কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষজন। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা, বেড়েছে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাও। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় খোলা জায়গায় বসবাসকারী মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ ও পণ্য পরিবহনে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি সমস্যা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দেশে টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, আরিচা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, বগুড়া, বদলগাছী, তাড়াশ, বাঘাবাড়ি, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুমারখালীর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, এটি অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে দুই থেকে তিনটি মৃদু এবং এক থেকে দুটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

কুয়াশার বিষয়ে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদ-নদী অববাহিকাসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। তবে কখনও কখনও কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, প্রথম দফায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছিল গত ৩১ ডিসেম্বর। পরে টানা চার দিন শৈত্যপ্রবাহ চলেছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর গতকাল রোববার তাপমাত্রা বেড়ে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, ফলে শৈত্যপ্রবাহ কিছুটা থেমে গিয়েছিল। ভোরের দিকে কুয়াশার মতো বৃষ্টি হলেও দুপুরে রোদের দেখা মিলেছিল। গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত রোদ ওঠেনি, চারপাশ কুয়াশাচ্ছন্ন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, গতকালের চেয়ে আজ ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে গেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, গতকাল সোমবার আবার শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঈশ্বরদীতে: হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে পাবনার মানুষ। পদ্মা-যমুনা নদী তীরবর্তী পাবনা অঞ্চলে শীতের তীব্রতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। ঘন কুয়াশা, কখনো কুয়াশা বৃষ্টি এবং হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গতকাল সোমবার পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া পর্বেক্ষক নাজমুল হোসেন জানান, গত দু’সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি থেকে ৯ বা ১০ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছিল। ৩১ ডিসেম্বর থেকে তাপমাত্রার পারদ আরো নিচে নামতে থাকে।

সোমবার সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি। নাজমুল হোসেন আরও জানান, এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ২ জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি। এমতাবস্থায় এই হাড় কাঁপানো শীতে পদ্মা-যমুনা নদীর চরাঞ্চলের ২ লক্ষাধিক মানুষসহ অন্তত ৭ লক্ষাধিক মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শীতে কাজ করতে না পারায় মানবেতর দিন যাপন করছেন তারা। শীতের কবল থেকে বাঁচতে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে চেষ্টা করছেন শীত নিবারণের জন্য। এছাড়াও প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।