শীতের রাতে কম্বল নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে পুঠিয়ার ইউএনও
পুঠিয়া প্রতিনিধি: চলমান শৈত্যপ্রবাহে কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড শীতে কষ্ট করছে মানুষ। গরম কাপড়ের স্বল্পতায় ছিন্নমূল, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট আরও বেশি। তাদের কথা চিন্তা করে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নিজে উপস্থিত হয়ে কম্বল বিতরণ করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিয়াকত সালমান। গত রোববার সন্ধা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বাজার, এতিমখানার শিক্ষার্থীদের ও ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ভ্যানচালক, দিনমজুর, পথচারীসহ কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ছিন্নমূল ও অসহায় শীতার্ত মানুষদের গায়ে নিজ হাতে কম্বল পরিয়ে দেন তিনি।
শীতবস্ত্র পাওয়া লোকজন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে অনেক শীত পড়ছে। ঘরে যা আছে তা দিয়ে শীত মানছে না। আমাদের ঘরে কামাই করার মতো মানুষ নাই। শীতে কম্বল কিনতে পারি না। রাতে ইউএনও স্যার কম্বল বাড়িতে এসে দিয়ে গেছে। এতে আমাদের সবার উপকার হবে। শীতবস্ত্র পেয়ে এতিমখানার শিক্ষার্থীরা বলেন, ইউএনও স্যার নিজে এসে কম্বল দিয়েছেন। গত কয়েকদিন থেকে প্রচণ্ড শীতের কারণে আমাদের কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্ত গতকাল কম্বল পেয়ে আমরা অনেক খুশি। কম্বল পেয়ে এক নারী বলেন, কয়েকদিন ধরে শীত পড়ছে। আমি রাতে পিঠা বেচি। আগুনের কাছে থাকলেও শীত কমে না। অনেক শীত করে। কম্বল পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, এই শীতে ছিন্নমূল ও দরিদ্র অসহায় মানুষগুলো অনেক কষ্টের মধ্যে আছে। তাদের মধ্যে অনেকের শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই। তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। ইউএনও আরও বলেন, আমরা প্রকৃত ছিন্নমূল ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছি। সরকারি নির্দেশনায় শীতার্তদের মধ্যে আমাদের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ইউএনওর সঙ্গে ছিলেন- উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস সুমিত ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহবুবা আক্তার প্রমুখ।











