ঢাকা | জানুয়ারী ৮, ২০২৬ - ৩:১৭ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে ভরাট করা পুকুর পুনঃখনন শুরু প্রশাসনের

  • আপডেট: Tuesday, January 6, 2026 - 9:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে অবৈধভাবে ভরাট করা একটি পুকুর পুনঃখনন করছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর আহম্মেদপুর এলাকার পুকুরটি খননকাজ শুরু করা হয়। বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি ভরাট কাজ শুরু হয়েছে। বারবার অভিযোগ করা হয়েছিলো। এমনকি এটি নিয়ে মানববন্ধনও করা হয়েছে। এরপরও প্রভাবশালীরা কৌশলে পুকুরটি ভরাটের কাজ করে যাচ্ছিলো। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের এমন উদ্যোগ দেখে বেশ খুশি তারা।

বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন জানান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নগরীর  পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জলাশয় সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জানান, ব্যক্তিগত মুনাফার আশায় যারা জমি বিক্রির উদ্দেশে পুকুর ভরাট করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। এই কার্যক্রমে রাজশাহী সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় লজিস্টিক এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এবং পরিবেশের সুরক্ষায় যেখানেই খবর পাওয়া যাবে সেখানেই তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রাজশাহী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাছমিনা খাতুন বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী একটি জলাশয় পুনঃখনন করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা ইট বা খোয়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছিলো। বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। ইতিপূর্বে কয়েকবার সর্তক করা সত্ত্বেও দখলদাররা কাজ বন্ধ না করায় এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। প্রায় এক বিঘার ওপর অবস্থিত এই পুকুরটি রক্ষায় সরকার এখন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে যাতে দ্রুত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রাজশাহীতে পুকুর ভরাট ও দখল নিয়ে ২০১৪ সালে ‘হাইকোর্টে একটি রিট করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নগরে পুকুর গণনা করে বোয়ালিয়া ভূমি কার্যালয় ৯৫২টি পুকুরের তালিকা করে। এর মধ্যে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত পুকুর ৪৮টি। বাকিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন ২০১৯ সালে ২২টি ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নেয়। পরে আর সে প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।