ঢাকা | জানুয়ারী ৫, ২০২৬ - ৮:০৮ অপরাহ্ন

কাকন বাহিনীর তাণ্ডব: দুই মাসের মাথায় পদ্মার চরে ফের খুন

  • আপডেট: Sunday, January 4, 2026 - 11:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা সংঘর্ষে নতুন করে একজন নিহত হয়েছেন। এর আগে কাকন বাহিনীর হাতে চারজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দু’জন মারা যাওয়ার পর গত শনিবার রাতে সোহেল রানা নামে আরও একজনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৮ অক্টোবর “ডাবল মাডার” নামে পরিচিত ঘটনায় আলোচনায় আসে কাকন বাহিনী। ওই ঘটনায় নিহত আমানের পিতা মিনহাজ মণ্ডল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় কাকনকে প্রধান আসামি করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর গত ৩১ অক্টোবর বাঘা উপজেলার খানপুর বাজারে নিহত চারজনের পরিবার ও স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।

সেই ঘটনার জের কাটতে না কাটতে গত শনিবার গভীর রাতে বাঘার গড়গড়ি ইউনিয়নের পলাশী ফতেপুর এলাকার করালি নোওসারা গ্রামের কালু মণ্ডলের ছেলে সোহেলকে নিশানা করে কাকন বাহিনী। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সশস্ত্র কাকন বাহিনীর সদস্যরা নদীপথে স্পিড বোটে এসে ঘুমন্ত সোহেলের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। এতে সোহেল মারা যান এবং তার স্ত্রী সাদিয়া বেগম আহত হন।

স্থানীয়রা রাত দেড়টায় তাকে বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমাইরা বেগম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোহেলের স্ত্রীর ভাষ্য, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। বাড়ির টিনের বেড়াতে আঘাত করে বাইরে থেকে বলা হচ্ছিল, তারা প্রশাসনের লোক। একপর্যায়ে তারা টিনের বেড়া ভেঙে ঘরে ঢোকে। কম্বল গায়ে শুয়ে থাকা তাঁর স্বামীকে গুলি করা হয়। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তিনি তাদের চিনতে পারেননি।

এর আগে গত অক্টোবর মাসে বাঘার খানপুর বাজারে কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে মিনহাজ মণ্ডল বলেন, কাকন বাহিনী প্রকাশ্য দিবালকে নদীপথে স্পিডবোডে চড়ে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। আমরা তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয়রা আরও জানায়, কাকন বাহিনী চরের জমি ও বালি মহল দখল, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র হামলার কারণে তিন জেলার- রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত সোমবারও খানপুর পদ্মা নদীর পাশে জমি ও খড় দখলকে কেন্দ্র করে গুলি চালানো হয়। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়; নিহত হন আমান ও নাজমুল, আহত হন মুনতাজ ও রাকিব।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক গতকাল রোববার সকালে বলেন, ঘটনাস্থলটি রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর থানার সীমান্তবর্তী এলাকায়। ঘটনাস্থল নিয়ে বিতর্ক আছে। ঘটনার পর নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা তাঁকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সে কারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর কাজটি বাঘা থানার পুলিশই করছে। কোন থানার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা নির্ধারণের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। যে থানার মধ্যে জায়গাটি পড়বে, সেই থানায় মামলা হবে।