স্বপ্ন পূরণের পথে প্রান্তিক জনপদের ৫ নারী শিক্ষার্থী
রেজাউল ইসলাম সেলিম, নিয়ামতপুর থেকে: এলাকার হতদরিদ্র মানুষের সেবা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল ওদের। এছাড়াও বাবা-মাকে দেয়া কথা রাখতেই মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তুতিতে ওরা ছিল অনড় ও আত্মবিশ্বাসী। তাদের সেই আত্মবিশ্বাসই স্বপ্ন পূরণ করেছে তাদের। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় চিকিৎসাশাস্ত্র পাঠের সুযোগ পেয়েছেন নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ৫জন। তাদের এ স্বপ্ন জয়ে নিয়ামতপুরবাসী যেমন খুশি তেমনি তাদের সফলতায় অনুপ্রানিত হবে নিয়ামতপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।
নাফিসা নজিনীন: নাফিসা নাজনীনের বাড়ি নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের টগরইল গ্রামে। বাবা নাসিরুল ইসলাম জিসকা ফার্মায় এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। মা খন্দকার সারোয়ার একজন গৃহিণী। নাফিসা রাজশাহী সরকারি পিএন বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ হয়েছে তার। নাফিসা জানান, চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। বাবা- মাও চাইতেন এমটাই। আমার ও বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক হয়ে নিজ এলাকার অবহেলিতদেরসহ মানুষের সেবা করতে চাই। আর এজন্য আমি সকলের দোয়া প্রার্থী।
ফাহমিদা ইসলাম: ফাহমিদার বাড়ি একই উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামে। বাবা মোমিনুল ইসলাম ফিটু ওই এলাকার চৌরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক। মা রোকেয়া খাতুন গৃহিণী। ফাহমিদা চৌরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পাস করেন। এরপর নাচোলের এশিয়ান স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে রাজশাহী নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। পাবনা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্র পাঠের সুযোগ হয়েছে তার। ফাহমিদা জানান, আমার স্বপ্ন ছিল মেডিকেলে পড়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। একজন মানবিক ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। সেই সুযোগটা তৈরি হলো। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন যেন ভালো চিকিৎসক হতে পারি।
তাকিয়া জান্নাত: নিয়ামতপুরের শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা আঞ্জুরুল ইসলামের মেয়ে। মা ফাতেমা খাতুন গৃহিণী। তাকিয়া জান্নাত নওগাঁ সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও নওগাঁ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। সে স্বপ্ন পূরণ হেেয়ছে তার। তিনি এবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ডাক্তার হয়ে মেহনতি মানুষের সেবা করতে চান। আর জন্য তিনি সকলের দোয়া চেয়েছেন।
তানজীন জয়ী প্রভা: উপজেলার সদর ইউনিয়নের নেহেন্দা গ্রামের অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য আনিছার রহমানের কন্যা প্রভা। মা নাজিয়া বেগম গৃহিণী। ভাদরন্ড লক্ষীতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শেষ করে পিএলবি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তানজীম জয়ী প্রভা। এইচএসসি পাস করেন রাজশাহী কলেজ থেকে। কঠিন অধ্যাবসায় ও পরিশ্রম তাকে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে। এবার তিনি শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। প্রভা জানান, তার এ সাফল্যে বাবা-মা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ সে। তিনি ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চান।
আনিকাতুস সাবা: নিয়ামতপুর উপজেলা সদরের মেয়ে সাবা। বাবা শহীদুল ইসলাম ব্যবসায়ী। মা হালিমা খাতুন গৃহিণী। সাবা নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শেষ করে নিয়ামতপুর সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। ডাক্তার হওয়ার উচ্ছা ছিল তার। সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবার তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চান।










