ঢাকা | নভেম্বর ৩০, ২০২৫ - ১০:১৬ অপরাহ্ন

নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে গেজেট পরিবর্তনের আহ্বান ৮ দলের

  • আপডেট: Sunday, November 30, 2025 - 9:52 pm

রাজশাহীতে ৮ দলের সমাবেশ:

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে। এখনো সুযোগ আছে, গেজেট পরিবর্তন করুন। জনগণ আগেই গণভোট চায়। এখনো সুযোগ আছে, তারিখ পরিবর্তন করুন। সরকারকে সঙ্কটে ফেলতে চাই না। তা না হলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। জনগণ হ্যা ভোট দিতে গিয়ে না তে ভোট দিয়ে দেবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে ৮ দলের উদ্যোগে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে একথা বলেন তিনি।

রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ৮ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি দল এখনো ষড়যন্ত্র করছে। গণভোটে হ্যা এর পক্ষে ভোট হবে। হ্যা ভোট মানে হলো ফ্যাসিবাদ বিরোধী নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সুশাসনের পক্ষে। জনগণের ম্যান্ডেট নষ্ট করা যাবে না। কোনো ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। নারী কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানাই।’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, ‘আমাদের এই ৮ দল আর ৮ দল থাকছে না, আমাদের সঙ্গে আরো অনেক দল আসার আবেদন করছে। সবার প্রত্যাশা পূরণে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রস্তুত। ৮ দলের জোট নতুন জাগরণ তৈরি হয়েছে। অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে। সরকার একই দিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত কারো কুপরামর্শে করেছে। মানুষের মনে আশা সঞ্চার হয়েছে নতুন বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশ হবে। এবারের সংগ্রাম চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। আমাদের ৮ দলের বার্তা জাগরণের বার্তা নিয়ে এসেছি। পরিবর্তনের বার্তা গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দিতে হবে।’

সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ। চাঁদাবাজদের প্রতিহত করবো ইনশাআল্লাহ। অতীতে যারা চাঁদাবাজি করেছে, তাদের আর খাওয়া নাই। আগামীর সংসদ হবে কুরআনের সংসদ। আগামীতে সচিবালয় চলবে সংসদ চলবে বিচারালয় চলবে কুরআন দিয়ে। সবকিছু চলবে কুরআন দিয়ে।’

একটি দলকে চান্দা পার্টি উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে জনগণ বুলেটের জবাব ব্যালটে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ছাড় দেয় ছেড়ে দেয় না, রাকসু নির্বাচন তার প্রমাণ। তিনবার গণভোট হয়েছে, একবারও নির্বাচনের দিন হয়নি। নির্বাচনের দিন গণভোটের নজির ইতিহাসে নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, একইদিনে গণভোট ও নির্বাচন চ্যালেঞ্জের বিষয়। যারা আয়োজন করবেন তারা বুঝে গেছেন, কিন্তু বিএনপি বুঝেনি। জনগণ বুঝে গেছে কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বুঝেনি।’

রাশেদ প্রধান আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে চিনেছে, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তার গণহত্যার বৈধতা দেয়া জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। অবিলম্বে ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করুন। চান্দা পার্টি পোস্টার ছিঁড়ছে। তারা ৮ দলের নেতাদের পোস্টার ছিঁড়তে পারে তবে মানুষের মন থেকে মুছতে পারবে না। নির্বাচনি প্রচারণায় বুলেট ছুড়ে মারা হচ্ছে। জনগণ বুলেটের জবাব ব্যালটে দেবে। গণভোটে হ্যা ভোটের পক্ষ নিন, ৮ দলের প্রতীকে সিল মারুন।’ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে। একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে না। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিড তৈরি করতে হবে। খুনিদের বিচার করতে হবে। উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।’

সমাবেশে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, ‘গণভোটে একটি দল না-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণ হ্যা পক্ষে ভোট দিয়ে তাদেরকে না করে দেবে। সিদ্ধান্ত নিন জুলাই সনদের পক্ষ নিয়ে হ্যা-কে জয়যুক্ত করুন। ইসলামের বাক্সে সব ভোট পড়বে ইনশাআল্লাহ।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চায়। মানুষ জেগে উঠেছে। চাঁদাবাজদের দেখতে চায় না। কার্যকর পার্লামেন্টে পরিনত করব। ঐক্য টিকিয়ে রাখতে হবে। এতে কেউ যাতে ফাটল ধরাতে না পারে। ইসলামী দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায়। সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ব। দেশের অবস্থা নাজুক। এখনো মিছিলে আন্দোলনে গুলি করে আহত করে, এটা আমরা বরদাশত করব না। জনগণের কাছে আমাদের যেতে হবে। কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি বলেন, ‘রক্ত দিয়েছি, রক্ত আরও দেব তবু আগে গণভোট ও জুলাই সনদ কার্যকর করবো। তাছাড়া দেশে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে, জুলাই সনদ কার্যকর করে তারপর নির্বাচন দিতে হবে। লড়াই করেছি একদিনের জন্য নয়, ৪৭ সাল থেকে। আবারও লড়াই করে আল্লাহর আইন কুরআনের শাসন অবশ্যই অবশ্যই কায়েম করবো ইনশাআল্লাহ।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব কোনো একক দলের নেতৃত্বে হয়নি। কিন্তু এই সরকার একটি দলের পকেটে ঢুকে যাচ্ছে। আমরা বলব, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন। গণভোট আগে হতে হবে। ষড়যন্ত্র চলছে। যথাসময়ে নির্বাচন হতে হবে। গণভোট আগে দিতে হবে। গণহত্যার বিচার করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। এই দেশ কারও বাবার দেশ নয়, কোনো পরিবারের দেশ নয়। এই দেশ ১৮ কোটি জনগণের দেশ। আমরা ৮ দল অনেক বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছি। নির্বাচনে ৮ দলের একজন প্রার্থী থাকবে। তাকেই আমরা ভোট দেব।’

রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও মুফতি ইমরানের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো. নুরুন্নবী, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি শেখ মো. সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন, জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাকসুর ভিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ৮ দলের রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে একদিন আগেই বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আসতে শুরু করেন। গতকাল রোববার বেলা বাড়ার সাথে সাথে মাদ্রাসা মাঠ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। সকাল থেকে ৮ দলের কর্মীদের দেয়া নির্দেশন মেনে বিভাগের বিভিন্ন জেলা আসা নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। সমাবেশ শুরু হয় দুপুর ২টার দিকে আর পূর্ব ঘোষিত সময় বিকেল ৪টার আগে অতিথিরা তাদের বক্তব্যে শেষ করে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা দেন। পরে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। সমাবেশ শেষে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দেন। এতে নগরবাসীর যাত্রা কিছুটা বিলম্ব হলেও জনভোগান্তি হয়নি।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস