ঢাকা | নভেম্বর ২৯, ২০২৫ - ১০:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী অঞ্চলে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ পরিচালনা, ৭২ জন গ্রেপ্তার

  • আপডেট: Saturday, November 29, 2025 - 10:03 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগের পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাবনার ঈশ্বরদী ছাড়াও নাটোরের নলডাঙ্গা ও সিংড়া উপজেলা জুড়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান।

রাজশাহী অঞ্চল জুড়ে অপরাধ দমনে পুলিশ গত ৯ নভেম্বর থেকে যে বিশেষ অভিযানে নেমেছে তার নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’। প্রথম ধাপে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার চরাঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান চালানো হয়।

ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, চলমান অভিযানের তৃতীয় ধাপে নাটোর ও পাবনার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। ডিআইজি বলেন, এবার ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে দুজন সর্বহারা গোষ্ঠীর সদস্য, অস্ত্রধারীর সহযোগী ও নিয়মিত মামলার আসামি ২০, মাদক মামলার ৪ জন, গ্রেপ্তারি ও সাজা পরোয়ানাভুক্ত ২৩ জনসহ ফ্যাসিস্ট বা সন্দেহভাজন হিসেবে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি দেশীয় অস্ত্র, এক কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, ২০০ পিচ ইয়াবা ও ৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, ৮টি মামলায় বিচারাধীন নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিঙ্গইন ভাটোপাড়া গ্রামের ডাকাতদলের সদস্য শহিদুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে দীর্ঘদিন ধরেই খুঁজছিল পুলিশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চর গড়াগড়ি এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। তখন পিস্তল হাতে এক ব্যক্তিকে গুলি ছুঁড়তে দেখা যায়। ঘটনার পর তাকে ধরতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে কোন দলই নিজেদের কর্মী হিসেবে স্বীকার করছে না বলে জানিয়েছেন ডিআইজি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এলাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা থাকে। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে এসব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতেই পুলিশ কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে।

অভিযানের সার্বিক তদারকি করেন ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। মাঠপর্যায়ে অংশ নেন রাজশাহী রেঞ্জের দুই অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি), নাটোর ও পাবনার এসপি, সার্কেল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। জেলা পুলিশের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও রিজার্ভ ফোর্সের সদস্যরা এ অভিযানে অংশ নেন বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, গেল ৯ নভেম্বর পদ্মা নদীর চারটি চরে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ চালিয়ে ৬৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই অভিযানে রাজশাহী জেলার পদ্মার চর থেকে ১৪ জন, নাটোরের পদ্মার চর থেকে ২০ জন, পাবনার পদ্মার চর থেকে ২৪ জন ও কুষ্টিয়া জেলার পদ্মার চর থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।এছাড়া সবশেষ গেল ২০ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ছয়টি থানায় ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট-২’ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৬৪ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ।