ঢাকা | এপ্রিল ৪, ২০২৫ - ৩:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

লালপুরে ঈদের নামাজ শেষে আ’লীগের গুলি বর্ষণ, যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক ৯

  • আপডেট: Thursday, April 3, 2025 - 10:57 pm

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে ঈদের নামাজ শেষে আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে মুসল্লি ও বিএনপি নেতা কর্মীদের ওপর গুলি বর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ বিএনপি কর্মী সুজাতসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। পরে অভিযান চালিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন ঝুলফুর ছেলেসহ নয় জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। গত রোববার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ শেষে লালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক পলাশের নেতৃত্বে আওয়ামী নেতাকর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিলে স্থানীয় মুসল্লি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে তর্কাতর্কি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ ঘটনায় রামকৃষ্ণপুর গ্রামের গুলিবিদ্ধ বিএনপি কর্মী আরজেলের ছেলে সুজাত (২৭) বলেন, ঈদের নামাজ পর জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা গুলি চালাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন নান্নু গুলি চালালে আমার পায়ে গুলি লাগে।

এ ঘটনায় আহত অপর তিনজন হলেন একই গ্রামের আইয়ুব মন্ডলের ছেলে ইয়াজউদ্দিন মন্ডল (৭৩), মৃত ইসাহাকের ছেলে জিয়া (৪৫), রায়েজের ছেলে মহসিন (২৮)। আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত সুজাতকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক উপস্থিত লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ সহ মুসল্লীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লালপুর  ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম লুলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, বিএনপি নেতা এটিএম জাহিদুল আলম ডলার ও জিয়াউর, আলাউদ্দিন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি পরিকল্পিতভাবে বক্সে করে অস্ত্র নিয়ে বিএনপি ও সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে। তারা ঈদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনার দোসররা আবারো দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। আওয়ামী লীগ ক্যাডার রবিউল ইসলাম রবির নেতৃত্বে বিএনপি নেতা কর্মীদের ওপর গুলি করা হয়েছে। এদেরকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে এবং প্রশাসনের প্রতি দ্রুত অস্ত্রধারী এই সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক জানান, এ ঘটনায় ৯ জনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, নাটোরের লালপুরে ঈদের নামাজের পর জয় বাংলা স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পর বিএনপি নেতা কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে রামকৃষ্ণপুর চিনিবটতলা ঈদগাহ মাঠে লালপুর উপজেলা বিএনপি ও গেপালপুর পৌর বিএনপির এই সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চালিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, কিন্তু এখনো তারা আইনের আওতায় আসেনি।

শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও তার দোসররা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। ঈদের নামাজ শেষে আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী বিএনপি কর্মীদের ওপর গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। বিক্ষোভ জনসভার প্রধান অতিথি বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ৫ তারিখের পরে আমরা আওয়ামী লীগের বাড়ি ঘরে হাত দিতে দেই নাই। অথচ তারা ঈদের দিনে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করল।

সেখানে আমাদের নেতাকর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছে তারা আজকে হাসপাতালে। আমরা এখনো তাদেরকে কিছু বলছি না তার মানে এই না যে আমরা চুপ করে বসে থাকবো। আমরা এখনো ধৈর্য ধরে রয়েছি। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কোনদিন ভালো হবে না। আমরা প্রশাসনের ভাইদের বলতে চাই, যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়েছে সেই অস্ত্রগুলো নিয়েই ৪ আগস্ট লালপুরের মাটিতে অস্ত্র মহড়া দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। আপনারা চাইলে তারা কেউ লালপুরের বাহিরে যেতে পারবে না। আপনারা দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনুন।