নাটোরে সরকারি খাদ্য সুরক্ষা সহায়তা পেয়েছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭১ পরিবার

অনলাইন ডেস্ক : রমজান মাসে জেলার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭১ পরিবারকে খাদ্য সুরক্ষা সহায়তা দিয়েছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওএমএস ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি এবং টিসিবি’র সুলভ মূল্যে খাদ্য বিপণন কর্মসূচির আওতায় চালসহ অন্যান্য পণ্য হ্রাসকৃত মূল্যে বিক্রয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল প্রদান করা হয়েছে ।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রমজান মাসে জেলার ৫২টি ইউনিয়নের ১৪৬ জন ডিলারের মাধ্যমে হত-দরিদ্র ৭৬ হাজার ১৭৫ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। ইতোমধ্যে উপকারভোগীদের মাঝে সুলভ মূল্যে চাল বিক্রয় কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
জেলার ছয়টি উপজেলা সদরে প্রতি কর্মদিবসে চার টন করে এবং জেলা সদরে পাঁচ টন করে ৩০ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে চাল বিক্রয় করা হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি পাঁচ কেজি করে চাল ক্রয় করেন। ২২ কর্মদিবসে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬০০ ব্যক্তি খাদ্য বিভাগের ওএমএস কর্মসূচির আওতায় মোট ৬৩৮ টন চাল সংগ্রহ করেন।
অন্যদিকে টিসিবি’র খোলা বাজারে সুলভ মূল্যে ট্রাক সেল কার্যক্রমের আওতায় প্রত্যেক কর্মদিবসে একজন ক্রেতা ৫১০ টাকায় দুই কেজি করে ছোলা ও মসুর ডাল, দুই লিটার সয়াবিন তেল এবং এক কেজি চিনি ক্রয় করেন। শহরের পাঁচটি স্থানের প্রতিটিতে ৪০০ ব্যক্তি অর্থাৎ মোট দুই হাজার ব্যক্তি প্রতিদিন এই সুবিধা পেয়েছেন। ১৯ কর্মদিবসে টিসিবি’র পণ্য বিপণন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করেছেন ৩৮ হাজার ব্যক্তি।
নাটোর প্রেসক্লাব চত্বরে পণ্য বিপণনকারী টিসিবি’র ডিলার সুমন হোসেন জানান, টিসিবি পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রতি কর্মদিবসে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা পণ্য সংগ্রহ করেছেন। ১৯ কর্মদিবসের বিপণন কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ রেজাউল হক খন্দকার বলেন, রমজান মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ওএমএস কর্মসূচির চাল বিপণন কর্মসূচি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। খাদ্য বিভাগ ছাড়াও প্রশাসনের ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে বিপণন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম শাহা আলম মোল্লা জানান, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে জেলার সাতটি উপজেলার ৫২টি ইউনিয়নে এবং আটটি পৌরসভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ১২৮৮.৯৬ টন চাল বরাদ্দ দেয়। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন এবং পৌরসভা পর্যায়ে ১ লাখ ২২ হাজার ৮৯৬ পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে দশ কেজি করে চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, রমজান মাসে খাদ্য বিভাগ এবং টিসিবি’র মাধ্যমে জেলার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭১ পরিবারে বিনামূল্যে অথবা সুলভ মূল্যে চালসহ বিভিন্ন পণ্য বিতরণ করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসব বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সূত্র: বাসস