ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৫ - ৫:০৭ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী কলেজে সূর্যমুখীর ফুল-পাতায় ‘অমর ২১’

  • আপডেট: Thursday, February 27, 2025 - 9:05 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কলেজে খোলা আকাশের নিচে দেখা গেল সবুজ পাতার গালিচা। তার ওপরে হলদে ফুলে লেখা ‘অমর ২১ ’। বায়ান্নোতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য এ কলেজ প্রাঙ্গণে গড়ে উঠেছিল আন্দোলন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজে অমর একুশ দেখতে এসেছিলেন ভাষা সংগ্রামী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। পূর্ব বাংলায় মাতৃভাষা বাংলার জন্য আন্দোলনে ছাত্রসমাজের বাইরেও অংশ নিয়েছিলেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছিলেন হাজারো কৃষক। সেই কৃষকের অবদান ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি নেন রাজশাহীর কৃষক মনিরুজ্জামান মনির। মূলত ২১ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরেই তার এই পরিকল্পনা।

আয়োজক কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, ভাষা-সংগ্রামের ইতিহাস এবং তাৎপর্য ও কৃষকের অবদান সবাইকে জানাতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মূলত ২১ ফেব্রুয়ারি আয়োজনটি করার ইচ্ছে থাকলেও সেদিন ফুলগুলো পূর্ণতা পেয়েছিল না। তাই কয়দিন পরে এ ফেব্রুয়ারিতেই ফুটিয়ে তোলা হলো অমর একুশ।

সুনিপুণ হাতে কলেজের কংক্রিটের ওপর ৩০ হাজার সূর্যমুখী ফুলে অমর একুশ ফুটে ওঠার সে খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে নগরে। যা একনজর দেখতে ভিড় জমান অনেক দর্শনার্থী। তারা ফুল দিয়ে তৈরি ‘অমর ২১’-এর সঙ্গে নিজেদের ফ্রেমবন্দি করার পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের শহিদদের অবদানকে স্মরণ করেন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গেই।

ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে এসেছিলেন বায়ান্নোতে রাজশাহীতেই ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়া ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জিও। তিনি জানালেন নিজের অনুভূতিও। রাজশাহীর এই ভাষাসৈনিক বলেন, রাষ্ট্রভাষার জন্য রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের অবদান কম নয়। ঢাকার পরেই আমরা রাজশাহীতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম। ঢাকার রাস্তায় গুলি চললে আমরাই প্রথম এই কলেজে রাতারাতি শহিদ মিনার নির্মাণ করেছিলাম। আমাদের চাওয়া, এই শহিদ মিনারটিকে যেন দেশের প্রথম শহিদ মিনারের স্বীকৃতি দেয়া হয়।

আয়োজককে ধন্যবাদ জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ যহুর আলী বলেন, এ ধরনের আয়োজন আমাদের ভাষা-সংগ্রামের ইতিহাস ও মর্যাদাকে সমুন্নত করে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মনিরুজ্জামান এ আয়োজন করেছেন। এ জন্য তার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।