ঢাকা | জুলাই ২৩, ২০২৪ - ১১:০১ অপরাহ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

  • আপডেট: Friday, June 28, 2024 - 3:00 am

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সবধরনের নিয়োগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে আর কোনো বাধা থাকলো না।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় অধিশাখা-২ এর যুগ্মসচিব পারভেজ হাসান সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সমুন্নত রাখার স্বার্থে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর জারি করা নিয়োগ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও নীতিমালা অনুসরণ করে সুষ্ঠুভাবে সব নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুমতি দেওয়া হলো।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা শিথিল ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের মেয়ে ও জামাতাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২০ সালের ১০ ও ১৩ ডিসেম্বর পৃথক ১২টি নোটিশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবধরনের নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাবিতে বর্তমানে এক হাজার ৪৯০টি শিক্ষক পদের মধ্যে শূন্য ৪৩৫টি। অর্থাৎ বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন এক হাজার ৫৫ জন। তাদের মধ্যে আবার ৫৬ জন সম্প্রতি অবসরে গেছেন। মারা গেছেন কিছু সংখ্যক শিক্ষক। অন্যদিকে কর্মকর্তার ৭৯২টি পদের মধ্যে শূন্য ২০০টি, সহায়ক কর্মচারীর এক হাজার ৪২টি পদের মধ্যে শূন্য ২৫১টি। এছাড়া সাধারণ কর্মচারীর এক হাজার ৯০৯টি পদের মধ্যে ৯০৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতের ন্যূনতম মানদণ্ড ধরা হয় ১:২০। অর্থাৎ প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকতে হবে। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতি ৩৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক। নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় এ অনুপাত কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. তরিকুল হাসান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আমিও শুনেছি। তবে এখনো অফিসিয়াল কোনো চিঠি পাইনি। এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। আমাদের কাছে (চিঠি) এলে আপনারাও জানতে পারবেন।’

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমরাও বিষয়টি শুনেছি। তবে আমাদের হাতে অফিসিয়ালি এখনো কোনো চিঠি আসেনি। চিঠি এলে আমরা তা ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেবো।’