ঢাকা | জুলাই ২৪, ২০২৪ - ১:০৬ পূর্বাহ্ন

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশেষ কমিশন গঠনের দাবি

  • আপডেট: Tuesday, June 25, 2024 - 9:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতিবাজ ও দেশের টাকা বিদেশে পাচারাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তাই তিনি দুর্নীতিবাজ ও টাকা পাচারাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আরেকটি বিশেষ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। ৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সারা দেশব্যাপি এই কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

সমাবেশে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, দুর্নীতিবাজদের ধরার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকর কোন ভূমিকা নেই। তারা কোন দুর্নীতিবাজকে ধরে আইনের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে; এমন নজিরও নেই। কারা দেশের জনগণের সম্পদ লুট করে ব্যক্তিগত সম্পদের পাহার তৈরী করছে, কারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেও পার পেয়ে যাচ্ছে; তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশেষ একটি কমিশন গঠনের কোন বিকল্প নেই।

সমাবেশে অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বর্ষিয়ান রাজনীতিক আরও বলেন, দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কারা এই টাকা পাচার করছে তাদের আপনি চিহ্নিত করতে পেরেছেন কিনা তা জানতে চাই। আপনারা পুলিশের সাবেক আইজিপি ও সাবেক সেনাপ্রধানকে চিহ্নিত করলেন। চিহ্নিত করার পরে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন তাও জানতে চাই। আমরা শুধু দুদকের খেলা দেখছি। দুদক কোনো দুর্নীতিবাজকে ধরবে, তার জন্য তাদের কাছে পর্যাপ্ত কোন আইন নেই। তাদের কোমর ভেঙে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের কার্যক্রম এক ধরনের লোক দেখানো। তারা যদি দুর্নীতিকে দমনই করেন, তাহলে তারা দেখাক, কোন দুর্নীতিবাজকে ধরে তারা আইনের মাধ্যমে জেলে পাঠিয়েছে।

সমাবেশে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশে থাকার জন্য দেশ স্বাধীন করলাম। রক্ত দিলাম, জীবন দিলাম। আর এই দেশেরই কিছু লুটেরা বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ লুট করে বিদেশে ‘সেকেন্ড হোম’ তৈরি করছে।

বাদশা বলেন, বিএনপির আমলে বাংলাদেশ তিন তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশে কিসে চ্যাম্পিয়ন? এখন বাংলাদেশের সম্পদ লুটেরারা লুট বিদেশের মাটিতে ‘বেগম পাড়া’, মালোশিয়াতে ‘বাংলাদেশী পাড়া’, দুবাই, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা দেশে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। যারা এসব করছে তাদের কোন তথ্য উপাত্ত কি অর্থমন্ত্রী রাখেন? তাদের খবর যদি অর্থমন্ত্রী না রাখেন, তাদের লুট করা সম্পদ যদি দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা না যায়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ কিভাবে টিকে থাকবে তা এখন বড় প্রশ্ন। আমি বিশ্বাস করি, দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারের বিষয়ে তথ্য উপাত্ত সরকারের কাছে আছে। কিন্তু সরকার কেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না তা আমার জানা নেই।

সমাবেশে বাংলাদেশের এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের একজন সদস্য কলকাতায় খুন হয়েছেন। বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য ভারতে গিয়ে খুন হলেন, কিন্তু সরকার তার মরদেহটি এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। খবরের কাগজে দেখলাম, সেই সংসদ সদস্য নাকি সোনা চোরাকারবারির সঙ্গে যুক্ত। সোনা চোরাকারবারি, অর্থ পাচারকারীরা যদি সংসদে যায়, তাহলে দেশের অবস্থা কি দাঁড়াবে সেটা বুঝতেই পারা যাচ্ছে।

বাদশা বলেন, নিয়ম আছে; সংসদের কোন সদস্য যদি মৃত্যুবরণ করেন তাহলে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন ও শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই সংসদ সদস্যের মৃত্যু খবর নিশ্চিত করার পরেও সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। তাহলে সরকার নিজেই স্বীকার করছে, যারা সংসদে গেছে তাদের মধ্যে দুর্বৃত্তরা রয়ে গেছে। এ ধরনের দুর্বৃত্তরাই সংসদে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করছে। সমাবেশ থেকে ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল কলকারখানা অনতিবিলম্বে পুনরায় চালু করার দাবি জানান।

রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবুর সঞ্চালনায় এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সাম্যবাদী দল রাজশাহী মহানগরের সম্পাদক ওমর ফারুক। উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, মহানগর সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল মতিন, মনির উদ্দিন পান্না নাজমুল করিম অপু, মহানগর যুব মৈত্রী সাধারণ সম্পাদক শামীম ইমতিয়াজ, মহানগর সদস্য সীতানাথ বণিক, আলমগীর হোসেন, বোয়ালিয়া পশ্চিম সাধারণ সম্পাদক শাহিন শেখ, আব্দুল খালেক বকুল, মাসুম আক্তার অনিক, শাহিনুর বেগম প্রমুখ।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস