ঢাকা | জুন ১৯, ২০২৪ - ১১:০২ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনে সৃষ্ট সংকট দ্রুত নিরসন চান ১৪ দলের শরিকরা

  • আপডেট: Wednesday, June 5, 2024 - 10:22 pm

সোনালী ডেস্ক: সমঝোতা ও ঐক্যের আগে নির্বাচনের আগে-পরে অবহেলা ও অবমূল্যায়নের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা চাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল শরিকরা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বৈঠক করেও ১৪-দলীয় জোটের শরিকদের মন গলাতে পারেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

জোট নেতারা বলেছেন, এখন জোড়াতালি দিয়ে সমঝোতা ও ঐক্য গড়ে তোলা হলেও ভবিষ্যতে আবারও একই রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হবে না, তার নিশ্চয়তা কী? এসব প্রশ্নের ফয়সালা না হলে ১৪ দলীয় জোটে থাকবেন কিনা, সেটাও ভেবে দেখার হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেছেন, সমতা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংকট নিরসন করতে হবে।

মঙ্গলবার ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর বাসায় জোটের বৈঠকে শরিক নেতাদের এমন কঠোর মনোভাব ফুটে উঠেছে।

এ সময় জোটের সংকট নিরসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঈদের আগে ১৪ দল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং এখনই জোটগত কর্মসূচি পালনের প্রস্তাব দিলেও সেটা প্রকারান্তরে নাকচ করে দেন শরিক নেতারা।

বৈঠকের সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ শরিকদের নিয়ে বিএনপি এবং বিদেশি শক্তির ‘ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি নিতে চায়। তবে শরিকেরা চায়, আগে তাদের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এর সমাধান হোক।

বৈঠকে শরিক নেতারা বলেন, এই সরকার আওয়ামী লীগের সরকার, ১৪ দলের সরকার নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রতি তাদের আস্থা আছে। কিন্তু যেভাবে দুর্নীতি-লুটপাট ও সংকট বাড়ছে, তাতে শেখ হাসিনার মর্যাদা ও দেশের উন্নয়ন ম্লান হচ্ছে।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের সঙ্গে শরিকদের দূরত্ব কমানো, মান-অভিমানের অবসান এবং জোটকে সক্রিয় করার লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দলের এই বৈঠকটি বসেছিল।

এর আগে গত ২৩ মে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও নিজেদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ তুলে ধরেন তারা। জোটের শীর্ষ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৪ দল আছে, থাকবে। জোটকে সক্রিয় করা হবে। সেই সঙ্গে শরিকদেরও নিজেদের সুসংগঠিত ও জনপ্রিয় করার তাগিদ দেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তারা অনেকগুলো প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। এর সব কটির জবাব এখনো পাননি। এ পরিস্থিতিতে জোটের কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে নেয়া যাবে?

তিনি গত ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় গুরুত্ব না দেয়া এবং ভোটে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যথাযথ সহায়তা না দেয়ার অভিযোগ করেন। ভবিষ্যতে এমনটা হবে না-এমন নিশ্চয়তা চান রাশেদ খান মেনন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুও বৈঠকে বিভিন্ন অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসানুল হক ইনু বলেন, তাকে গত সোমবারও গালাগালি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই নেতা থাকলে তিনি জোটের কোনো কর্মসূচিতে থাকবেন না। আর আসন্ন ঈদের পর তিনি কুষ্টিয়ায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাবেন। মিছিল-মিটিং করবেন। এতে যদি মারামারি লাগে, তাতে তিনি পরোয়া করেন না।

১৪ দলের সূত্র বলছে, জাতীয় পার্টির (জেপি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাধারণত জোটের বৈঠকে খুব একটা বক্তৃতা করেন না। কিন্তু গতকালের বৈঠকে তিনি সরাসরি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন একাই শক্তিশালী। ১৪ দলীয় জোটের প্রয়োজন আছে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জেপি সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ আদর্শের কথা বলে। কিন্তু তার নির্বাচনী এলাকায় রাজাকারের সন্তান আওয়ামী লীগের নেতা। এছাড়া নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জোর করে তাকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বৈঠক শেষে আমির হোসেন আমু বলেন, গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে যেটুকু গোলমাল হয়েছে, তা নিরসন করার জন্য শিগগিরই ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক হবে। এ ছাড়া ঈদের পর থেকে ইতিবাচক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাবে ১৪ দল।

বৈঠকের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস জানান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন। ফিরে এ মাসের মাঝামাঝি ১৪ দলকে নিয়ে আরেকটি বৈঠক করবেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী প্রমুখ।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস