ঢাকা | জুন ১৫, ২০২৪ - ১১:০৫ অপরাহ্ন

রিমালের প্রভাবে রাজশাহীতে টানা বৃষ্টি

  • আপডেট: Monday, May 27, 2024 - 9:00 pm
  • ভোগান্তিতে কর্মজীবীরা
  • শহরজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট
  • আম-ধানের ক্ষতি শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার: ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে রোববার রাত থেকে রাজশাহীতে দমকা বাতাসের সঙ্গে টানা ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোমবার বেলা দুইটা পর্যন্ত ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সোমবার রাত পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ কখনো বেশি, আবার কখনো কম। সোমবার সারাদিন টানা ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে কর্মজীবীদের।

এদিকে রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় টানা ৩ থেকে ৪ ঘন্টা পর্যন্তও বিদ্যুতের দেখা মেলেনি। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যহত হয়।

অন্যদিকে রিমালের প্রভাবে রাজশাহীর মাঠে থাকা বোরো ধান ও আমের কিছুটা ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। তবে রাজশাহীতে এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহাণির খবর পাওয়া যায়নি।

রিমালের প্রভাবে রাজশাহীতে রোববার রাত থেকেই টানা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে কমেছে তাপমাত্রা। রোববার রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টি ও বাসাতের কারণে তা সোমবার ২৬ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। ফলে অনেকটাই স্বস্তি নেমেছে জনজীবনে।

তবে বৃষ্টির কারণে শহরে মানুষের আনাগোনা সকাল থেকেই কম দেখা গেছে। উপায় না থাকায় বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কাজে বের হন কর্মজীবী মানুষ। এতে তারা বেশ ভোগান্তিতে পড়েন। রাস্তাঘাটে হাতেগোনা কয়েকটি অটোরিকশা ছাড়া তেমন গাড়িও চলতে দেখা যায়নি। এতে অনেকেই বাড়ির থেকে বের হয়ে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যানবাহন না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। অটোরিকশার ভাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ রাখা হচ্ছে।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, রিমালের প্রভাবে রাজশাহীতে গত রোববার রাত থেকে প্রথম বৃষ্টি শুরু হয়। পরে তা থেমে মধ্যরাত থেকে আবার শুরু হয়। সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় ২৫ মিলিমিটার। পরে বেলা দুইটার দিকে তা বেড়ে ৩৮ মিলিমিটার পরিমাপ করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল। বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে তাপমাত্রা কমে গেছে অনেক।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ১০ থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল। সকাল থেকেও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত চলছে। সেই সঙ্গে বয়ে চলেছে দমকা হাওয়া। এই বৃষ্টিপাত এখনই শেষ হচ্ছে না, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে শুরু হওয়া এই বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাবে এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে আসতে পারে। তবে উপকূলে বাতাসের যেমন গতি থাকে, অত বেশি থাকবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে রাজশাহী অঞ্চলের আমসহ খেতে থাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। রাজশাহীর বাঘার সাতারি গ্রামের এক আমচাষি জানান, এবার আমের জন্য প্রথম ঝড় হচ্ছে। বাগানে কিছু আম ঝরে পড়েছে। এখনো ঝোড়ো হাওয়া হচ্ছে। এই বাতাসে আম পড়ার জন্য যথেষ্ট। এবার এমনিতেই আম কম এসেছে। আম পড়ে গেলে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে ছালমা বলেন, রোববার রাত থেকেই ঝোড়ো বাতাস আর বৃষ্টি হচ্ছে। এই মুহুর্তে রাজশাহীতে কৃষকের বড় ফসল আম। আমের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষতি হয়েছে। আম ঝরেছে। জেলার আশেপাশের উপজেলায় ফজলি ও লক্ষণভোগ আম ঝরেছে। তবে সেটা খুব বেশি না।

কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায় থেকে তথ্য পাঠালে ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারবেন। তবে এখন বেশির ভাগ আম পরিপক্ব। অনেকে জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। সেই জমিতে বোরো ধান একটু দেরিতে হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে হয়তো ধান কাটাতে দু-এক দিন দেরি হবে। এ ছাড়া ধানের ক্ষতির তেমন আশঙ্কা নেই।