ঢাকা | মে ৩০, ২০২৪ - ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

বালিশ কাণ্ডের ঠিকাদার প্রসঙ্গে মেয়রকে সতর্ক করলেন সাংবাদিকরা

  • আপডেট: Thursday, May 9, 2024 - 10:22 pm

রাসিকের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার: রূপপুর বালিশকাণ্ডের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করানোয় কাজের মান নিয়ে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে সতর্ক করেছেন সাংবাদিকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাসিকের আয়োজনে মহানগরীতে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করতে নগর ভবনের সভা কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা মেয়রকে সকর্ত করেন।

এসময় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে করপোরেশন সজাগ রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নত্তোর পর্বে মেয়রের কাছে প্রশ্ন করে সাংবাদিকরা বলেন, নগরীতে বেশ কয়েকটি ফুট ওভার ব্রীজ নির্মিত হচ্ছে, যার বেশির ভাগই অপরিকল্পিত। নির্মিতব্য ফ্লাইওভারগুলোর কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এই কাজগুলো করতে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে আমলাদের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে সমন্বয় না থাকায় বাস্তবে কাজগুলো কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসময় ফুট ওভার ব্রীজের চেয়ে আন্ডারপাশ করলে বেশি কাজে আসবে বলে মতামত দেন একজন সাংবাদিক।

সাংবাদিকরা বলেন, দলীয় লোকজনের ছত্রছায়ায় নগরীর পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। দখল হচ্ছে সড়কের ফুটপাত। প্রশ্ন উঠেছে কবরস্থানের জায়গা কেনার স্বচ্ছতা নিয়ে। এসময় সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের জবাব দেন সিটি মেয়র। সিটি করপোরেশনের জন্য কবরস্থানের জায়গা একোয়ার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, ফ্লাইওভারসহ মহানগরীতে যখন নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলমান রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচার হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আলোচিত বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ব্যাখ্যাসহ মহানগরীর চলমান উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

লিটন বলেন, রাজশাহীতে রেলের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী শিগগিরই ট্রেন চলাচলের জন্য ডাবল লাইন হতে যাচ্ছে। চালু হতে যাচ্ছে ডাবল ডেকার ট্রেন। কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন নির্মিতব্য ইয়ার্ডে ভারত ও নেপাল থেকে আনিত পণ্য সামগ্রী নামানো ও ওঠানো হবে। আরডিএ-এর মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সিটি এলাকা উত্তর দিকে বাড়বে। ফলে উত্তর-দক্ষিণে চলাচল বাড়বে। রাজশাহী সিটির আয়তন তিন থেকে চারগুণ বাড়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। শহরের মধ্যে রেলক্রসিংগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আগামীতে মানুষ ও যানবাহন সংখ্যাধিক্যের কারণে শহরের উত্তর-দক্ষিণে চলাচল ক্রমবৃদ্ধিতে ভবিষ্যতে যানজটসহ দুর্ঘটনাও বাড়বে।

সার্বিক দিক বিবেচনায় জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দুর্ঘটনা রোধ ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে উদ্ভূত যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের বাস্তবতায় রাজশাহী মহানগরীতে রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান মুহূর্তে ফ্লাইওভার তৈরি করা না হলে ভবিষ্যতে তা করা কঠিন হবে, নির্মাণ ব্যয় বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাই আপাত দৃষ্টিতে ফ্লাইওভারের ব্যবহার সীমিত মনে হলেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ফ্লাইওভার নির্মাণ অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

তিনি জানান, ৫ বছর স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং বেকারত্ব হ্রাস ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি। নদী ও বরেন্দ্র অঞ্চলভিত্তিক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা। সিটি করপোরেশন এলাকা সম্প্রসারণ। রাজশাহী মহানগরীর প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। রাজশাহী মহানগরীর কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রকল্প।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর রুহুল আমিন প্রামাণিক, প্যানেল মেয়র-১ ও ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম উল আযীম, প্যানেল মেয়র-২ ও ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজ মিশু।