ঢাকা | মে ২০, ২০২৪ - ৫:৩১ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি

  • আপডেট: Monday, May 6, 2024 - 11:11 am

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে এক তরুণকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে উপজেলার গোগ্রাম বাজার থেকে ওই তরুণকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

শনিবার রাত ৯টার দিকে গোগ্রাম বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অপহরণের শিকার তরুণের নাম সোহান। তিনি গোগ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মুর্ত্তজার ছেলে। সোহান ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়া পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সোহানের অভিযোগ, রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে চারজন এসে নিজেরা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এরপর নাম জিজ্ঞাসা করেন। নাম-ঠিকানা বলার পর সোহানকে জোর করে মোটরসাইকেল তুলে নেওয়া হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর সোহানের হাতে হ্যান্ডক্যাপ পরানো হয়।

এরপর তাকে প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পাশে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় তারা বলেন, তোর বাপকে ফোন দিয়ে টাকা আনতে বল, নইলে মাদক মামলায় চালান দিয়ে দেব। টাকা না দিলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বসন্তপুর-খেতুরধামের রাস্তায় ফাঁকা জায়গায় নামিয়ে দিয়ে যায়। সেখান থেকে তিনি একাই গোগ্রাম বাজারে চলে যান।

গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সোহানকে অপহরণের পর এএসআই আনোয়ার সাদা পোশাকে গোগ্রাম বাজারে যান। সেখানে স্থানীয় লোকজন তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে প্রেমতলী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ওসমান গণি অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় জনতার ওপর লাঠিচার্জ করেন। এতে ৭-৮ জন আহত হন। পুলিশের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন লোকজন। এতে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে গোদাগাড়ী থানার ওসি আব্দুল মতিন ও গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

মজিবুর রহমান বলেন, উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছে সোহানকে ফেরত চান। এ সময় সোহানের মোবাইল ফোনে অপহরণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন ওসি আব্দুল মতিন। এরপর তারা সোহানকে ছেড়ে দেন। এখন পুলিশই সোহানকে অপহরণ করেছিল কিনা তা জানি না। বিষয়টি নিয়ে আমরা রাতেই পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেছিলাম। সোহানকে কারা অপহরণ করেছে সেটি তদন্ত করে বের করার জন্য বলেছি। এ সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করেছি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এএসআই আনোয়ার বলেন, সোহানকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে আমি জানি না। রাতে আমার ডিউটি শেষে গোগ্রাম বাজার পার হয়ে কিছুটা গেলে কয়েকজন এসে আমার সঙ্গে কথা বলেন এবং সোহানের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় অনেক লোকজন জড়ো হয়ে যান। পরে আমি প্রেমতলী কেন্দ্রের ইনচার্জকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। তবে রাতে সাদা পোশাকে গোগ্রাম বাজারে কেন গিয়েছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, কারা সোহানকে তুলে নিয়ে গিয়ে চাঁদা দাবি করেছে সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও গুরুত্বসহকারে দেখছেন।

 

সোনালী/ সা