ঢাকা | মে ১৯, ২০২৪ - ৪:২৮ পূর্বাহ্ন

গোলাম আরিফ টিপুর জীবনসংগ্রাম জাতির কাছে অনুপ্রেরণা

  • আপডেট: Sunday, May 5, 2024 - 10:35 pm

নাগরিক শোকসভায় বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার: প্রয়াত ভাষা সৈনিক, মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপুর স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেছেন, তিনি ছিলেন কর্মবীর। বাহান্নর ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান চিরস্মরণীয়। তিনি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেছেন। জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় গোলাম আরিফ টিপুর জীবনসংগ্রাম জাতির কাছে অনুপ্রেরণা।

রোববার বিকেল সন্ধ্যায় পর্যন্ত রাজশাহী কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নাগরিক শোক সভায় দেয়া বক্তব্যে তারা এসব কথা বলেন। নাগরিক শোক সভা কমিটি, রাজশাহীর উদ্যোগে এই শোকসভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক শোকসভা কমিটির সভাপতি ও ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জী। নাগরিক শোকসভা কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রামাণিক শোকসভার সঞ্চালনা করেন।

শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, গোলাম আরিফ টিপু সাহসের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কখনো আপোস করেননি। বাংলাদেশের কৃর্তিমান মানুষ ছিলেন গোলাম আরিফ টিপু। তিনি পুরো জীবনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মানুষকে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

শোকসভায় দেয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রাজনৈতিক তথা সামাজিক অঙ্গনে গোলাম আরিফ টিপু আমাদের অভিভাবক ছিলেন। রাজশাহীতে প্রথম শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠায় গোলাম আরিফ টিপুর ছিল প্রত্যক্ষ অবদান। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেফতার করা হয়, তখন শেখ হাসিনার পক্ষে যারা খুব স্পষ্টভাবে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে গোলাম আরিফ টিপু একজন। সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও গোলাম আরিফ টিপু ঘরে বসে ছিলেন না। সেখানেও তার অবদান ছিল অতুলনীয়।

জাতীয় এই রাজনীতিক আরও বলেন, বিএনপির আমলে রাজশাহীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে আমি মেয়র প্রার্থী ছিলাম। সেই নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য একটি নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গোলাম আরিফ টিপু সেই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তির জন্য সেদিনের তার ভূমিকা আমাদের কাছে চিরস্মরণীয়। এভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে আমরা তাকে অভিভাবক হিসেবে পাশে পেয়েছি। তার নেতৃত্ব সবসময় আমাদের অনুপ্রাণিত করে এবং সাহস জোগায়।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও রাবির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন গোলাম আরিফ টিপু। তিনি ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তাকে নিয়ে আমরা গর্বিত। তিনি আমাদের সম্মুখে না থাকলেও হৃদয়ে থাকবেন সব সময়।

প্রয়াত গোলাম আরিফ টিপুর সহধর্মিণী জাহনারা বেগম লুই বলেন, ভাষা আন্দোলনে দেশের প্রথম শহীদ মিনার রাজশাহীতে নির্মাণে নেতৃত্ব দিয়েছেন গোলাম আরিফ টিপু। সেটি এখনো পুর্ণাঙ্গভাবে নির্মিত হয়নি। রাজশাহীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেও তিনি ছিলেন। সেটি নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

শোকসভার সভাপতি ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জী বলেন, গোলাম আরিফ টিপু বহু গুণের অধিকারী ছিলেন। তিনি সুবিধাবাদীর দলে থেকে অনেক উপরে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি এদেশের গরীব ও অসহায় মানুষের হয়ে আজীবন লড়েছেন। মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মূল্যায়ন করেছেন।

নাগরিক শোকসভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাবির উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরকুতুব আলম মান্নান, রাবি শিক্ষক কবি জুলফিকার মতিন, রাজশাহী বারের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. লোকমান আলী, কবি জুলফিকার মতিন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, ন্যাপ রাজশাহী মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. সাইদুর রহমান, সাবেক মহানগর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আব্দুল মান্নান, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কবি আরিফুল হক কুমার, সিপিবি নেতা রাগিব হাসান মুন্না, প্রয়াত গোলাম আরিফ টিপুর বড় মেয়ে ডালিয়া নাসরিন, জাসদ রাজশাহী মহানগর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী প্রুমখ।

শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহা. হবিবুর রহমান, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবুসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, রাজনৈতিক, সামাজিক,সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শোকসভার শুরুতে ভাষা সৈনিক গোলাম আরিফ টিপু’র স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এছাড়া শুরুতে তার প্রকৃতিতে নাগরিক শোকসভা কমিটিসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সোনালী/জেআর