ঢাকা | মে ২৭, ২০২৪ - ৩:০৩ পূর্বাহ্ন

গভীর নলকূপের পাইপে পড়লেন যুবক, ৫ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

  • আপডেট: Saturday, April 27, 2024 - 11:10 am

অনলাইন ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএমডিএর অরক্ষিত গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে এক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। নাচোল উপজেলার পূর্ব নেজামপুর গ্রামে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের একটি পাইপ লাইনে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তি একই এলাকার চৈতন্য বর্মণের ছেলে রনি বর্মণ (২৪)। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যান রনি। পরে সেখানে পানি সংগ্রহ করতে যাওয়া এক কৃষক রনির গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়ে গ্রামবাসী ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা অভিযানের পর বিকাল ৪টার দিকে নিহত রনির মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রনির মা পার্বতী বর্মণ জানান, মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় এই এলাকার আশেপাশে খেলাধুলা করে রনি। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে জানতে পেরে ডিপ ঘরে ছুটে আসি। তারপর দেখি ছেলে ডিপকলের পাইপের ভেতর পড়ে আছে আর গোঙাচ্ছে (শব্দ করছে)।

এ সময় বুকফাটা আর্তনাদ করে পার্বতী বর্মণ বলেন, ওই ডিপকলের মুখ খোলা আছে সে কারণে আমার ছেলে সেখানে পড়ে গেছে, বন্ধ থাকলে সে পড়ত না।

রনির পিতা চৈতন্য বর্মণ জানান, আমি কিছু জানি না ভাই, আমি তখন হাটের দিকে ছিলাম। পরে খবর পেয়ে এসে দেখি ছেলে পাইপের ভিতর পড়ে আছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আমার ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। শেষে তো আমার ছেলের লাশ উদ্ধার করে আমাকে দিয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিএমডিএর গভীর নলকূপের পাইপ লাইনটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল। এটি পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও তারা সিলগালা বা পাইপের মুখটি বন্ধ করে রাখলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না। এই দায় বিএমডিএ ও তাদের ঠিকাদার কোনোভাবে এড়াতে পারে না। এর আগে দেশের এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও বিএমডিএ কর্ণপাত করেনি। বিএমডিএর এমন কর্মকাণ্ডের জন্য একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল।

বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এর নাচোল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, এটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ ছিল। তবে কাজ চলমান ছিল। পাশেই আরও একটি নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ঈদের কারণে কাজ বন্ধ ছিল। অরক্ষিত থাকার কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কি না এমন প্রশ্নে উত্তরে তিনি জানান, একেবারে অরক্ষিত ছিল না, পাইপের উপরে বালির বস্তা রাখা ছিল।

নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুনুর রশিদ বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী রনি ডিপ ঘরের ছিটকানি খুলে পাইপের উপর থাকা বস্তা সরিয়ে পাইপের ভেতর নামে। এখানে আমাদের করার কিছু নাই।

অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত গভীর নলকূপটি সিলগালা না করার দায় বিএমডিএ এড়াতে পারে কি এমন প্রশ্ন করলে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে থাকা ঠিকাদারের লোকজন সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে এবং উত্তেজিত হয়ে বিএমডিএ পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা এ ঘটনার জন্য মানসিক প্রতিবন্ধী মৃত রনিকে দায়ী করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক ওহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, খবর পাওয়ার পর থেকে আমাদের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করে। নিহত রনি পাইপটির ১১৭ ফুট গভীরে থাকায় তাকে উদ্ধার করতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। সেখানে পানি ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে রনির মৃত্যু হয়েছে। পরে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা চেষ্টার পর আমরা মরদেহ উদ্ধার করি।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ না করে এটি খোলা রেখে সঠিক কাজ করেনি। পাইপ লাইনের মুখ খোলা থাকার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

 

সোনালী/ সা