ঢাকা | মে ৩০, ২০২৪ - ৩:৪৪ অপরাহ্ন

তীব্র গরমে পুড়ছে রাজশাহী 

  • আপডেট: Friday, April 26, 2024 - 10:39 pm

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি

ঝরে পড়ছে আম, লিচুর গুটি

বৃষ্টির জন্য হাহাকার

স্টাফ রিপোর্টার: তীব্র গরমে পুড়ছে পদ্মাপাড়ের রাজশাহী। খরাপ্রবণ এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ উঠে গেছে ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বইছে লু-হাওয়া। টানা তাপপ্রবাহে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। সবচেয়ে কষ্টে আছে শ্রমজীবী মানুষ। বিরূপ প্রকৃতির কাছে যেন হার মানছে সবকিছুই।

থমকে দাঁড়িয়েছে জনজীবন। এপ্রিলজুড়ে স্মরণকালের তপ্ত মৌসুম পার করছেন রাজশাহীর মানুষ। খরতাপে ঝরে পড়ছে আম ও লিচুর গুটি। বৃষ্টির জন্য হাহাকার থামছেই না।

রাজশাহী আবহাওয়া কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত বছরের ১৭ এপ্রিল রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর চলতি মৌসুমে শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৫ সালের এপ্রিলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। টানা তাপপ্রবাহে ব্যহত হচ্ছে রাজশাহীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ওইদিন পর্যন্ত এটিই ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে গত শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছি ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন রোববারও (২১ এপ্রিল) একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

এরপর ২২ এপ্রিল রেকর্ড হয় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৩ এপ্রিল রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ২৪ এপ্রিল ছিল ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ তাপমাত্রার নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে পদ্মাপাড়ের এ মরু শহর। টানা তীব্র তাপপ্রবাহ যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে এখানে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৮ মে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল এ রাজশাহীতেই। ওইদিন রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

আর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তাপমাত্রার এ রেকর্ড আর ভাঙেনি।  তবে দেশে এবারের চলমান অস্বাভাবিক তাপমাত্রা আগের সেই সর্বোচ্চ রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক মো. গাওসুজ্জামান বলেন, ভারী বর্ষণ ছাড়া আপাতত এ তীব্র তাপপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর দুই একদিনের মধ্যে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাতেরও কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আপাতত বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চলমান খরতাপে ঝরে পড়ছে আম ও লিচুর গুটি। বরেন্দ্র অঞ্চলে বৃষ্টির জন্য হাহাকার থামছেই না। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা উম্মে ছালমা জানিয়েছেন, টানা তীব্র খরার কবলে পড়েছে এই অঞ্চলের কৃষি। ঝরছে আমের গুটি। বিশেষ করে ফসলি জমিতে থাকা ধান, ভুট্টা ও পাটের ক্ষেত পুড়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের জমিতে বেশি বেশি সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

দুঃসহ এই গরম থেকে পরিত্রাণ পেতে গতকাল শুক্রবারও ‘সালাতুল ইস্তিসকার’ আদায় করা হয়েছে। এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় রাজশাহীর তেরখাদিয়ায় শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়াম মাঠে এই সালাতুল ইস্তিসকারের আয়োজন করা হয়। নামাজ শেষে বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

অনাবৃষ্টি ও দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে টানা তৃতীয় দিনের মতো নামাজ অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গেল সপ্তাহ থেকে রাজশাহীতে তাপপ্রবাহ নিয়ে সতর্ক থাকতে মাইকিং করেছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

তারা এই গরমে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে সতর্কতামূলক বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া গত বুধবার থেকে একই ধরনের কর্মসূচি চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

সোনালী/জেআর