ঢাকা | এপ্রিল ১৪, ২০২৪ - ৫:০৯ অপরাহ্ন

সংরক্ষিত নারী আসনেও ব্যবসায়ীরা এগিয়ে

  • আপডেট: Friday, March 29, 2024 - 12:08 pm

অনলাইন ডেস্ক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনেও এগিয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নির্বাচিত ৫০ জন সংরক্ষিত সংসদ সদস্যের হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কথা জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। গতকাল এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংসদে কার্যকর নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সাধারণ আসনের মতোই সরাসরি ভোটের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। সংসদে কার্যকর নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের লক্ষ্যে কতিপয় সুপারিশ তুলে ধরেন তিনি।

এগুলো হলো : সংরক্ষিত আসনেও সাধারণ আসনের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের বিধান করতে হবে; সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের দায়বদ্ধতা থাকবে জনগণের কাছে; এ আসন সংরক্ষণ পদ্ধতি এমন করতে হবে, যাতে কোনো দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) না থাকে; সাধারণ আসনের মতো সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব হবে সমান। সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের পেশার তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৩ জন বা ২৬ শতাংশই ব্যবসায়ী। এ ছাড়া সাতজন চাকরিজীবী, পাঁচজন শিক্ষক, পাঁচজন গৃহিণী, দুজন আইনজীবী ও দুজন কৃষিজীবী। আটজন (১৬ শতাংশ) তাদের পেশা ‘রাজনীতি’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বাকি আটজন বিভিন্ন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সংবাদ সম্মেলনে নারী সংসদ সদস্যদের আয়ব্যয়ের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছে সুজন। এতে বলা হয়, ৫০ জনের মধ্যে বছরে ১ কোটি টাকার বেশি আয় করেন দুজন। তাঁরা হলেন শাম্মী আহমেদ (১ কোটি ৩৬ লাখ ৯৬ হাজার ১৭১ টাকা) এবং অপরাজিতা হক (১ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ৭১৭ টাকা)। তাঁরা উভয়েই আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত। বার্ষিক আয় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে পাঁচজনের। ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১০ জন। ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন ২০ জন। বার্ষিক ৫ লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম আয় করেন মাত্র ১০ জন। আয়ের ঘর পূরণ করেননি দুজন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্যের মধ্যে একজনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার কম এবং অন্য জনের ৫০ লাখ টাকার অধিক।

দিলীপ কুমার সরকার বলেন, সাধারণ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ কোটি টাকার বেশি আয় করলেও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যের মধ্যে এ হার ৪ শতাংশ। এখানে সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের মধ্যে আয়বৈষম্য লক্ষণীয়। সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের সম্পদের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বলা হয়, ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৫ কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক রয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে ১৩ জনই আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত। বাকি একজন জাতীয় পার্টির।

সর্বোচ্চ সম্পদের অধিকারী তিনজন হলেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম (১০৫ কোটি ৩৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৬ টাকা), আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রুনু রেজা (২৪ কোটি ২২ লাখ টাকা) এবং মিসেস নাহিদ ইজাহার খান (১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭৪ হাজার ৭০ টাকা)। দিলীপ কুমার সরকার বলেন, হলফনামায় সম্পদের যে তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, তাতে সম্পদের প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। কেননা অনেক প্রার্থীই সম্পদের মূল্য উল্লেখ না করায় আর্থিক মূল্যে সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখ না করার কারণেও সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা যায় না। আমরা অনেক আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের কাছে ছকটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছি।

শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত এমপির মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর, আটজন স্নাতক, চারজন এইচএসসি, পাঁচজন এসএসসি এবং তিনজন এসএসসির চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সংরক্ষিত নারী আসন ইতিবাচক। কিন্তু এখন বাস্তবে কতটুকু নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সত্যিকার অর্থে নারী আসনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হলে নারীরা পরবর্তীতে সাধারণ আসন থেকে নির্বাচন করে আসতেন। এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নে যোগ্যতা প্রধান বিবেচ্য বিষয় নয়। দলীয় প্রধানের অনুগ্রহ হিসেবে এ মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো কোনো এলাকার প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং কোনো কোনো এলাকা হয়েছে বৈষম্যের শিকার।

সোনালী/ সা