ঢাকা | এপ্রিল ২১, ২০২৪ - ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

  • আপডেট: Wednesday, March 27, 2024 - 11:22 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গত মঙ্গলবার বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ দিবসটি উদযাপন করে বিভিন্ন সংগঠন। বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

জেলা প্রশাসন
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বে-সরকারি ভবনসমূহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের শহিদ স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে ৫৪তম মহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের শহিদ স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সংস্থা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। সকাল আটটায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জাতীয় সংগীত পরিবেশনার সাথে সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

পরে তিনি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ৭৫’র ১৫ আগস্ট ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বক্তৃতা করেন। জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, আরএমপি’র কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সকাল দশটায় জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং দেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনাসভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। সভায় আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর (অব.) ড. শামসুল আলম (বীর প্রতীক)। জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আনিসুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আব্দুল হাদী । অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক কর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাসভার শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

রাসিক

দিবসটি উপলক্ষে গত মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সিএন্ডবি মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে কাউন্সিলরবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সাথে রাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। কর্মসূচিতে রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম উল আযীম, প্যানেল মেয়র-২ ও ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন, রাসিকের অন্যান্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরবৃন্দ রাসিক সচিব মোবারক হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নুর-ঈ-সাঈদ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মামুন ডলার, নির্বাহী প্রকৌশলী উন্নয়ন মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী পরিকল্পনা সুব্রত কুমার সরকার, মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী বিপুল কুমার সরকার, জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, আবাসিক চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম বনি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু, ভান্ডার কর্মকর্তা আহসান হাবিব, চীফ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার আজিজুর রহমান, ত্রাণ কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন মুন, উপ-সচিব তৈমুর হোসেন, সহসচিব শমসের আলী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিজামুল হোদা, সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা রকিবুল হক তুহিন, রাসিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহমেদ মামুনসহ বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ আবুল খায়ের। এদিকে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরভবন সিটি হল সভাকক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সচিব মোবারক হোসেন। সভায় বক্তব্য দেন কাউন্সিলরবৃন্দ। দিবসের শুরুতে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নগরভবনসহ ওয়ার্ড কার্যালয় ও কর্পোরেশনের অন্যান্য স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বাদ যোহর সোনাদিঘী মসজিদ ও নগরভবন মসজিদসহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা,প্যাগোডা ও অন্যান্য উপসানালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাবি

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাবি’র শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন ও উপাচার্য ভবনসহ অন্যান্য ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে ও সকাল ৯টায় বধ্যভূমি স্মৃতিফলকে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এসময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক অবায়দুর রহমান প্রামানিক, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক তারিকুল হাসান, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, অনুষদ অধিকর্তা, হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ৮ টায় প্রভাতফেরি শেষে হল প্রশাসন, বিভাগ, ইনস্টিটিউট, শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৯ টায় নিজ নিজ কার্যালয়ে অফিসার সমিতি, সহায়ক কর্মচারী সমিতি, সাধারণ কর্মচারী ইউনিয়ন ও পরিবহন টেকনিক্যাল কর্মচারী সমিতির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় শেখ রাসেল মডেল স্কুলে এবং সকাল সাড়ে ১০ টায় রাবি স্কুলে স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। অন্যদের মধ্যে উপ-উপাচার্যবৃন্দ, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, স্কুল দুটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১১টায় সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেঞ্জারের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। বেলা সাড়ে ১২ টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় রাবির শহীদ পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক অবায়দুর রহমান প্রামানিক।অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক তারিকুল হাসান, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, অনুষদ অধিকর্তা, হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাদ আসর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত।

রামেবি

২৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২.০১ টায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) অস্থায়ী কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে উপাচার্যের পক্ষে কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. রুস্তম আলী আহমেদ রামেবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন, পিও কাম কম্পিউটার অপারেটর আব্দুস সোবহান। এরপর গত মঙ্গলবার সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৯টায় কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. রুস্তম আলী আহমেদের সভাপতিত্বে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন রামেবির রেজিস্ট্রার (অ.দা.) ডা. জাকির হোসেন খোন্দকার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হাবিব, উপ-কলেজ পরিদর্শক ডা. জোহা. মোহম্মদ মেহেরওয়ার হোসেন, জনসংযোগ ও ডিন দপ্তরের সেকশন অফিসার জামাল উদ্দীন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সেকশন অফিসার শাহারিয়ার ইসলাম।

সভা সঞ্চালনা করেন, সহকারী রেজিস্টার (চ.দা.) রাসেদুল ইসলাম। এসময় সহকারী কলেজ পরিদর্শক (চ.দা.) নাজমুল হোসাইন, সেকশন অফিসার তানভীর আহমেদ, রেজাউল উদ্দিন, মাসুম খান, সাকিল আহম্মেদ, সহকারী প্রোগ্রার ফারজানা ফাইজা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাসেল আলী, আরাফ হোসেন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নূর-রায়হান, জাহিদ হাসান, মাহমুদুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর কবির আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, মেহেদী মাসুদ সানি, আসাদুরর হমান, গোলাম রহমান, নাজমুল আলম ইমনসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এদিন বাদ আসর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে রাজশাহী মেডিকেল ক্যাম্পাস কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া করা হয়। এর আগে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সকল শহিদের স্মরণে রাত ১১টায় ১মিনিটে প্রতিকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হয়। এরপর এক মিনিট নিরবতা পালন ও মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

দিবসটি উপলক্ষে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সূর্যোদয়ের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সকাল ১০টায় উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহার নেতৃত্বে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। পরে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর পরপরই শুরু হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আইন ও মানবাধিকার বিভাগের প্রভাষক রুবাইয়া এলিন সুধার সঞ্চালনায় আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ গবেষণা ইনিস্টিটিউটের ডিস্টিংগুইসড প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান। বক্তব্য দেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফয়জার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্য আলোচককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অন্যান্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সুরঞ্জিত মন্ডল, বিভিন্ন স্কুলের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, কো-অর্ডিনেটরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

বাউবি

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী আঞ্চলিক কেন্দ্রে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মোমবাতি প্রজ্বলন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং রাত সাড়ে ১০টা ১ মিনিটের জন্য বৈদ্যুতিক আলো নিভানো হয়। গত মঙ্গলবার ভোর ৬:৩৫ টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ^বিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে রাজশাহীর ভুবনমোহন পার্ক চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করা হয় এবং দিন শেষে আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান ফটকে আলোকসজ্জ¦ার ব্যবস্থা করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক পরিচালক আবু বাককার-এর নেতৃত্বে আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ভবন আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়। মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে স্বাধীনতার বীর শহিদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টায় চেয়ারম্যান রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়ে নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহীতে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সকাল সোয়া ৯ টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চত্বতে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ও ১৫ আগস্টের সকল শহিদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সকাল সাড়ে ৯ টায় চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. অলীউল আলমের সভাপতিত্বে এবং প্রধান মূল্যায়ন অফিসার (চলতি দায়িত্ব) এস.এম. গোলাম আজমের সঞ্চালনায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মান্নান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কলেজ পরিদর্শক ও অনুষ্ঠানের আহবায়ক এনামুল হক। এছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব হুমায়ূন কবীর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আরিফুল ইসলাম, বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হক,সিনিয়র সিস্টেম এনালিষ্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ফেডারেশনের মহাসচিব হুমায়ন কবীর। বাদ আছর মহান স্বাধীনতায় শাহাদৎ বরণকারী সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শিক্ষা বোর্ড মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

রাকাব

মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় জেলা প্রশাসন, রাজশাহী’র শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক-রাকাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আঃ রহিম; রাজশাহী বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আতিকুল ইসলাম। এছাড়াও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বিভাগীয় কার্যালয়, বিভাগীয় নিরীক্ষা কার্যালয়, এসইসিপি, স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়, জোনাল কার্যালয় ও জোনাল নিরীক্ষা কার্যালয়, এবং রাজশাহী জোনের আওতাধীন রাজশাহী, গ্রেটাররোড কাজীহাটা, বিনোদপুর ও পবা শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে রাকাব প্রধান কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। রাকাব সিবিএ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও অফিসার্স এসোসিয়েশন-এর পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এছাড়াও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বঙ্গবন্ধু অঙ্গণে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুসহ মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয় এবং সকাল ১০টায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে এবং রাকাব পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রইছউল আলম মন্ডল-এর প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল অংশগ্রহণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং দেশের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদ; বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল সদস্য এবং জাতীয় চার নেতার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

বিএমডিএ

মঙ্গলবার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আয়োজনে সকালে প্রধান কর্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য বেগম আখতার জাহান। সভাপতিত্ব করেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ। এদিকে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও রাজশাহী নগরীর কোর্ট এলাকায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি স্তম্ভে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশীদের উপস্থিতিতে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। উপস্থিত ছিলেন অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী শামসুল হোদা, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম , তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সচিব যোবায়ের হোসেন, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিবির আহমেদ, প্রকল্প পরিচালক এটিএম রফিকুল ইসলাম, , তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম মাহফুজুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হুদা, নির্বাহী প্রকৌশলী মোক্তাদিউর রহমান প্রমুখ।

আহ্ছানিয়া মিশন

আহ্ছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ, স্বাধীনতা বিষয়ক রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন খেলাধুলা, পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শহীদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল অনুষেদর ডীন প্রফেসর ইকবাল মতিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. আখতার উদ্দীন, কলা অনুষদের ডীন জনাব শেহনাজ ইয়াসমীন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আলাউদ্দিন ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

কাশিয়াডাঙা কলেজে

মহান স্বধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নগরীর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত কাশিয়াডাঙা কলেজে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল বীর শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাজ্ঞাপক মাসব্যাপী ব্যানার প্রদর্শন, ২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় পতাকাকে সালাম প্রদর্শন ও জাতীয় সক্সগীত পরিবেশন, ধীর পায়ে শহিদমিনারে গমন ও বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল। এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল করিম শাহ্। প্রধান অতিথি ছিলেন গভর্নিং বডি’র সভাপতি কামরান হাফিজ। বক্তব্য দেন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম গাউস, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজব আলী, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মাহমুদ হাসান ফয়সাল, সহকারী অধ্যাপক বেগম নারগীস আরা প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মজিবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শরীরচর্চা শিক্ষক দিলারা জাহান।

শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার র‌্যালি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকাল ৯টায় শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নিবার্হী পরিচালক মোহসিন আলীর নেতৃত্বে এবং প্রধান কার্যালয় এর তত্ত্বাবধানে স্টাফদের সমন্বয়ে একটি টিম র‌্যালিসহ রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।

পাশাপাশি মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) নিয়ন্ত্রনাধীন রাজশাহী জেলা ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে র‌্যালিসহ রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শাপলা এর রাজশাহীস্থ বনলতা আবাসিকে সংস্থার প্রধান কার্যালয় (এনেক্স-০১) কনফারেন্স হলে সংস্থার উদ্যোগে কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোহসিন আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন এমএফপি সমন্বয়কারী হাসিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার এইচআর সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম।

সোনালী/জেআর