ঢাকা | এপ্রিল ২০, ২০২৪ - ৩:০৮ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপুরে অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি, উৎপাদন ব্যহৃত হওয়ার আশষ্কা

  • আপডেট: Sunday, March 10, 2024 - 9:35 pm

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: দুর্গাপুর উপজেলায় নতুন পেঁয়াজ উঠতে এখনো এক মাস সময় রয়েছে। কিন্তু রমজান মাসকে সামনে রেখে লাভের আশায় পরিপক্ক হওয়ার আগেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন কৃষকেরা। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শষ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার শঙ্কায় এখনই ভয়ে অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। বাজারে দামও ভাল পাচ্ছেন।

রোববার দুর্গাপুর পৌর এলাকার শালঘরিয়া গ্রামে জমিতে একেবারেই অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলছিলেন মসলেম উদ্দিন। পুরো জমির পেঁয়াজ গাছ এখনো সবুজ রয়েছে। তারপরও লাভের আশায় জমিতে থেকে অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলছিলেন।

কৃষক মোসলেম উদ্দিন জানান, তার খেতে এখনো ২৫ দিন থাকবে পেঁয়াজ। কিন্তু শেষ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে। তাই প্রায় এক মাস আগেই অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

মোসলেম বলেন, এখন বাজারে ৩২০০ হাজার থেকে ৩৫০০ টাকা মণ দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। ভরা মৌসুমে এ পেঁয়াজ এক হাজার টাকা মণ দরেরও নিচে বিক্রি হতে পারে। সেই ভয় থেকেই পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছি। গতকাল রোববার দুর্গাপুর সদর পেঁয়াজ হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ থেকে ৩৫০০ টাকা মণ দরে।

দুর্গাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলে (আল) পেঁয়াজ রোপণের কাজ। উচ্চ ফলনশীল আল পেঁয়াজের সময় লাগে তিন মাস।

মার্চ মাসের শেষ ও এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে কৃষকেরা আল পেঁয়াজ তাদের ঘরে তোলে। এবার উপজেলায় ২ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন।

এদিকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা কম পরিপক্ব পেঁয়াজ তুলছেন। মাঠে বসেই নারী ও পুরুষ কৃষকেরা পেঁয়াজ পরিষ্কার করছেন। পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের টুটুল মিয়া জানান, এখন ওষুধসহ সব জিনিসের দাম বেশি। এক বিঘা পেঁয়াজ করতে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম কমে যায়।

তাই এখন উৎপাদন কম হলেও বেশি দাম পাচ্ছি। বাজারেও এই অপরিপক্ক পেঁয়াজ ৩২০০ থেকে ৩৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই আগেই পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করছি। না হলে লোকসানের আশষ্কা রয়েছে। রৈ-পাড়া গ্রামের রনি মন্ডল বলেন, এবারই প্রথম দামের কারণে অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি করছি। এখন যে পেঁয়াজ কাঠাপ্রতি ২ মণ হচ্ছে, এক মাস পর তা পরিপক্ব হলে কাঠাপ্রতি ৪ মণ উৎপাদন হতো।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুন্তলা ঘোষ বলেন, এখন (আল) পেঁয়াজ তোলার কথা নয়। আলের পেঁয়াজ তুলতে এখনো এক মাস সময় রয়েছে। কোথাও আলের পেঁয়াজ তোলা হচ্ছে কী না, এ তথ্য আমাদের কাছে নেই। কারণ মাঠ পর্যায়ে আলের পেঁয়াজ পরিপক্ক হওয়া ছাড়া তুলতে কৃষকদের নিরৎসাহিত করা হচ্ছে।

সোনালী/জেআর