ঢাকা | এপ্রিল ১৬, ২০২৪ - ৬:৩১ পূর্বাহ্ন

‘বিলাসবহুল বিদ্যুৎ ব্যবহারে বেশি বিল, নিম্ন আয়ের মানুষেরা পাবেন কিছু ছাড়’

  • আপডেট: Sunday, February 25, 2024 - 2:00 pm

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অচিরেই কৃষি সেচ ব্যবস্থা পুরোপুরি সৌর বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, তাদের বিদ্যুৎ বিল অন্যদের চেয়ে বেশি হবে। অর্থাৎ তাদের বিদ্যুতের রেট অন্যদের চেয়ে বেশি হবে। নির্দিষ্ট ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারে কম বিল দেবেন স্বল্প আয়ের ব্যবহারকারীরা।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস ২০২৪’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে স্থানীয় সরকারকে। কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়নে বরাদ্দ দেবে, কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সাবলম্বী হতে হবে।

তিনি জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। রাস্তাঘাট অনেক হয়েছে। ডিজিটাল সেন্টার হয়েছে দেশব্যাপী। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। মানুষ এখন সব সেবা পান গ্রামে বসেই।

বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ঠিক রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খেয়াল রাখতে হবে বলে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চাকুরে। তাদের তো জবাবদিহিতা নেই। কিন্তু আমরা যারা জনপ্রতিনিধি, তাদের তো দায় এড়ানোর উপায় নেই। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয়দের খোঁজখবর রাখবেন। কারণ তাদের আস্থা-বিশ্বাসই আপনাকে প্রতিনিধি বানায়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করবেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বুদ্ধি শুনে অযথা বা যেনোতেনো প্রকল্প নেবেন না। কারণ আপনার এলাকার প্রয়োজন আপনাকেই ভালো করে জানতে হবে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি থেকে সমাজ রক্ষায় বিশেষ যত্নবান হয়ে কাজ করতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের।

মানুষের আয় বেড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়াতে যথাযথ মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ভূমির কার্যকর ব্যবহার করতে হবে। সার্বজনীন পেনশন স্কিমে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত হলে উপকৃত হবে সবাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিল তখন আমরা একটি কমিশন গঠন করি। ৯৬ সালে যখন আমরা সরকারে আসি তখনই আমরা ওয়ার্ড থেকে নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে, উপজেলা, জেলা পর্যন্ত আইন পাস করি। জেলা পরিষদ আইন আমরা সেই সময় করে দেয়। জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে উন্নয়নের সার্বিক কাজ হয়, সে ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছিলাম।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আবারও আমরা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনকে শক্তিশালী করি। জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে যেন এগুলো গড়ে ওঠে সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সার্বিক উন্নয়ন।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যখন ২০০৮-এ ঘোষণা দিয়েছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব, আমরা সারা দেশে ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তুলেছি। প্রথমে তথ্য কেন্দ্র পরে ডিজিটাল সেন্টার করি। আজ সারা বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজারের মতো ডিজিটাল সেন্টার আছে। যেখান থেকে মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সমগ্র গ্রামবাংলা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। ওয়াইফাই কানেকশনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগটাও আমরা করে দিয়েছি।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ, শরীয়তপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. মো. লায়েব উদ্দিন লাভলু, পঞ্চগড় পৌরসভা মেয়র জাকিয়া খাতুন ও জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ লাভলু প্রমুখ।

সোনালী/জেআর