ঢাকা | এপ্রিল ২০, ২০২৪ - ৮:৩৩ অপরাহ্ন

শিক্ষক ক্লাসে আসেন দুপুরে, উপস্থিতি নেন সকাল সাড়ে ৯ টার

  • আপডেট: Thursday, February 22, 2024 - 10:32 pm

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ ক্লাসের উপস্থিতি কমিয়ে শিক্ষার্থীদের নন কলেজিয়েট এবং ডিস কলেজিয়েট করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের কারুশিল্প ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি থেকে ডিসিপ্লিনটির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর থিসিস ও নন-থিসিস আট শিক্ষার্থী এই অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন ওই ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন আহাম্মেদ ওরফে টভেল। অনশনরত শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে ডিস কলেজিয়েট এবং নন কলেজিয়েট করা হয়েছে।

শ্রেণি শিক্ষক প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ডিপার্টমেন্টে আসেন, যেখানে তিনি তাদের সাড়ে নয়টা থেকে ক্লাসে থাকতে বলতেন এবং বিভিন্ন কর্মচারী ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের থেকে শুনে তার ভিত্তিতে এটেন্ডেন্স দেন।

এই নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীরা অনেকেই ক্লাসে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত হয়। অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের দাবি, ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ জন কলেজিয়েট, ২ জন ননকলেজিয়েট এবং বাকি ৮ জনকে ইচ্ছাকৃতভাবে কম উপস্থিতি দেখিয়ে ডিস কলেজিয়েট করা হয়েছে। এই মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জনকে আবার ১ দিনের মধ্যে ফরম পূরণ কর আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অনশনে বসা মেহেদী হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা অনশনে বসেছি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার দাবিতে। আমাদের শ্রেণী শিক্ষক মনির উদ্দিন দিনের পর দিন আমাদের ওপর মানসিক অত্যাচার করেছেন। আর অত্যাচারের চূড়ান্ত পর্যায়ে তিনি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদের ডিস কলেজিয়েট করেছেন।

আবার তিনি নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের তোয়াক্কা না করে বিভাগের আসেন দুপুরে। কাঠমিস্ত্রী এবং তার কিছু গুপ্তচর শিক্ষার্থীদের কথা শুনে এটেনডেন্স দেন। তিনি বারবার বলতেন ‘তোমরা কীভাবে পরীক্ষা দাও আমি দেখে নিব।’ বলে হুমকি দেন।
এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন নিয়মের মধ্যে আছে আমার জানা নেই। আমরা অত্যাচারের সর্বোচ্চ অবস্থায় আজকে এখানে বসেছি।

অভিযোগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘তারা ক্লাস শুরুই করেছে দেরিতে। ডিস কলেজিয়েট হয়ে এখন যা খুশি বলছে। তবে আমি নিয়মিত আমার ক্লাস নিয়েছি। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সুলতান-উল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিভাগকে বলা হয়েছে। একাডেমিক কমিটি বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করবে। যে সব অভিযোগ আমরা শুনতে পাচ্ছি উঠেছে সে বিষয়ে বিভাগকে তাদের সিদ্ধান্তে বক্তব্য তুলে ধরতে বলা হয়েছে। এরপর যদি আমরা সত্যতা পাই তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ শিক্ষার্থীর বেলা অপরাধী হবে শিক্ষক বা অন্যরা অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে তা হতে পারে না।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, যেহেতু একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাই আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনা করব। তবে এখনো কোন সিদ্ধান্ত বা আলোচানা হয়নি।’

সোনালী/জেআর