ঢাকা | এপ্রিল ১৪, ২০২৪ - ৭:৩২ অপরাহ্ন

হল প্রাধ্যক্ষকে রাবি ছাত্রলীগ নেতার হুমকি ॥ কক্ষ সিলগালা

  • আপডেট: Tuesday, February 20, 2024 - 6:00 pm

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: হলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান ও হল প্রাধ্যক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জরুরি সভা ডেকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় হল প্রশাসন। তবে সেই নির্দেশ তোয়াক্কা না করে হলে অবস্থান করলে তার কক্ষটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নগরীর মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছে হল প্রশাসন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম শামীম হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নবাব আব্দুল লতিফ হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে মাঝরাতে নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা শামীম হোসেনকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। প্রশাসনের সেই নির্দেশ তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করতে থাকেন তিনি।

এছাড়া আবাসিক শিক্ষার্থীকে আসন থেকে নামিয়ে দেওয়াসহ হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে শামীমের বিরুদ্ধে। সোমবার বিকালে হল প্রাধ্যক্ষকে মুঠোফোনে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেন হল প্রাধ্যক্ষ।

পরে হল প্রশাসন এক জরুরি সভা ডাকে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে শামীমকে মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু শামীম কক্ষ ত্যাগ না করলে দুপুরে হল প্রশাসন তার ২১২ নম্বর কক্ষটি সিলগালা করে দেয়। এছাড়া বিকালে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরের মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মোবারক পারভেজ। তিনি বলেন, ‘গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল প্রশাসন একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।’

জানতে চাইলে নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা শামীম হোসেনকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও সে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করতে থাকে। তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা বিরোধী আরও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। গতকাল বিকালে শামীম আমাকে মুঠোফোনে হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও দুই-তিনটা লাশ ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হল প্রশাসন তার কক্ষ সিলগালা করেছে।’

হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা শামীম হোসেন বলেন, ‘‘আমি শুধু বলেছিলাম, স্যার বিভিন্ন রুমে তালা লাগাচ্ছে কারা? চুরির ঘটনাও ঘটছে। এগুলো কারা করছে? উনি বলেছিলেন, রুমে রুমে পাহারা দেওয়ার সময় নাই। তখন আমি বলেছিলাম, কোনো ব্যবস্থা না নিলে-তো হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, তখন বড় ধরনের ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। এটুকুই বলেছি। এছাড়া কোনো হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’’

ছাত্রত্ব না থাকলেও হলে থাকার বিষয়ে শামীম বলেন, ‘আমি হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছি। ছাত্রত্ব না থাকলেও মূলত দায়িত্বের কারণে হলে থাকছি। এছাড়া আমি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শর্ট কোর্সে ভর্তি আছি। ’

সোনালী/জেআর