ঢাকা | জুলাই ১৪, ২০২৪ - ১১:১৪ অপরাহ্ন

পুঠিয়ায় নৈশপ্রহরীর কাছে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে

  • আপডেট: Monday, February 5, 2024 - 8:55 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধি: পুঠিয়ায় কান্দ্রা দাখিল মাদ্রাসার নৈশ্য প্রহরীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোর পূর্বক তার নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার সুপার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখে ওই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার কান্দ্রা দাখিল মাদ্রাসায় প্রায় ২৩ বছর যাবত নৈশ্যপ্রহরী পদে চাকরি করে আসছেন কান্দ্রা এলাকার মৃত. অবের মন্ডলের ছেলে তালিম উদ্দিন। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ের দিকে ওই মাদ্রাসা থেকে ১টি ফ্যান ও আরো কিছু জিনিসপত্র হারিয়ে যায়। এর আগেও ওই মাদ্রাসায় ঘটেছে কয়েকবার চুরির ঘটনা।

পরে আবারও ঘটে টিউবয়েলের মাথা চুরির ঘটনা। সে সময় টিউবওয়েল এর মাথা হারিয়ে যাবার অপরাধে মাদ্রাসার সুপার ওই নৈশ্যপ্রহরীর নিকট থেকে ৪ হাজার ৪শ টাকা জরিমানা আদায় করেন। এবার আবার মাদ্রাসার ফ্যান হারিয়ে যাওয়ার অপরাধে ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা আদায় করেছেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় যে, কান্দ্রা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আনোয়ার হোসেন তিনি প্রতিষ্ঠানের ফ্যান হারিয়ে যাবার অপরাধ দেখিয়ে ভুক্তভোগী তালিম উদ্দিনের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। টাকা না দিলে চাকরি চলে যাবে এমন ভয় ভীতিও দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের জিনিস হারিয়েছে বলে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি টাকা লেনদেনের বিষয়টি অন্য কাউকে জানালে বেতন বন্ধসহ মাদ্রাসা থেকে বের করে দেবে বলে ভয় ভীতি দেখায়।

এসব বিষয়ে জানতে কান্দ্রা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আনোয়ার হোসেনের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে, সাংবাদিক বুঝতে পেরে আগামীকাল কথা বলবে বলে লাইনটি কেটে দেয়। এ বিষয়ে মাদ্রাসাটির সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট হারুনুর রশিদ বলেন, টাকা লেনদেনের পরে বিষয়টি আমি জেনেছি। খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

তাকে টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। আমি আগে জানতে পারলে তাকে টাকা দিতে হতো না। চারিদিকে খোলামেলা। প্রতিষ্ঠানে যদি বাউন্ডারি ওয়াল থাকতো তারপর চুরি হলে না হয় একটা কথা ছিল। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানে রাতে ও দিনে কাজ করার বিষয়ে স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রধান সুপার।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আখতার জাহান বলেন, আমার কাছে ভুক্তভোগী পরিবার এসেছিল, আমি তাদেরকে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য বিষয়টি বলে দিয়েছি। তার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। প্রতিষ্ঠানের সুপারকে আমি অনেক ভালো মনে করেছিলাম।

তার ভেতরে এমন কিছু আছে আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। তবে অপরাধ করে থাকলে অবশ্যই তাকে সাজা পেতে হবে। আর ভুক্তভোগীকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলবেন।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় এ বিষয়ে আরো জানতে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনার দেবাশীষ বসাক বলেন, এই বিষয়টি দেখার জন্য পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খুব দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি।

সোনালী/জেআর