ঢাকা | জুলাই ২৪, ২০২৪ - ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে আহত বন্ধুকে দেখতে এসে খুন হলেন তরুণ

  • আপডেট: Sunday, February 4, 2024 - 8:45 pm

অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় হামলায় আহত বন্ধুকে দেখতে এসে মো. সোহাগ (২৬) নামের এক তরুণ খুন হয়েছেন। নিহতের গ্রামের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরে। তিনি ওই গ্রামের শরীফ উদ্দিনের ছেলে ও ঢাকায় থাকতেন।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রামে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় তিনজনকে এরই মধ্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

জানতে চাইলে বিকেলে রাজশাহী জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম এই খুনের তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম বলেন, হামলার পর ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এরপর নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে নিহত সোহাগের বাবা ও ভাই এরই মধ্যে রাজশাহী এসে পৌঁছেছেন। তারা এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনও সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে তা পরে জানানো হবে। এছাড়া সোহাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আটকদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলেও জানান এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, বাগমারার মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে মনোয়ার হোসেনের (২৬) সঙ্গে সোহাগের বন্ধুত্ব ছিল আগে থেকেই। ঢাকার মালিবাগে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে তারা একসঙ্গে চাকরি করতেন। পরে দুইজনই ওই চাকরি ছেড়ে দেন। তবে তাদের সেই বন্ধুত্ব থেকেই যায়।

বাগমারার ঝিকড়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা কৃষক লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে আগ থেকেই বিরোধ চলছিল।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আসাদুল দলীয় প্রার্থী পক্ষে কাজ করেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। এরই মধ্যে সপ্তাহখানেক আগে ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন আসেন নজরুল ইসলামের ভাতিজা মনোয়ার হোসেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নজরুলের লিজ নেওয়া পুকুর পাড়ে নিজেদের সরিষাক্ষেতে যান মনোয়ার।

এ নিয়ে প্রতিপক্ষ আসাদুলের লোকজন মনোয়ারের সঙ্গে বাগ-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা মনোয়ারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়। এ সময় মারামারিতে আসা দুলের পক্ষের মোসলেম নামের এক ব্যক্তিও আহত হন। পরে মনোয়ারকে উদ্ধার করে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। আর মনোয়ারের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাকে দেখতে ঢাকা থেকে আসেন তার চাচাতো ভাই ইমরান এবং বন্ধু সোহাগ ও রনি। তারা এসে প্রথমে সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মনোয়ারকে দেখতে যান।

এরপর রাত ৯টার দিকে আত্রাই থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে মনোয়ারে বাড়িতে যান। তারা এলাকায় গেলে গ্রামে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করে নিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রচার চালায় আসাদুলের লোকজন। এ নিয়ে গ্রামে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে আসাদুলের লোকজন ডাঙ্গাপাড়া মোড়ে তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় তারা চালকসহ তিনজনকে ঘিরে রাখে। তবে সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে সোহাগকে মাঠের মধ্যে ধরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অন্য দু’জন কোনোভাবে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

সোনালী/জেআর