ঢাকা | জুলাই ১৮, ২০২৪ - ১:৫১ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনি সংঘাত: রাজশাহীসহ নানা প্রান্তে বাড়ছে আতঙ্ক

  • আপডেট: Friday, December 29, 2023 - 12:10 am

♦ পাবনায় স্বতন্ত্রের গাড়িবহরে নৌকা সমর্থকদের হামলা ♦ নাটোরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিস ভাঙচুর ♦ বগুড়ায় স্বতন্ত্রের কর্মীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান ♦ জামালপুরে নৌকার প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুর ♦ রাজশাহীতে নৌকার প্রার্থীর প্রচারে বাধা, মাইক ভাঙচুর ♦ শেরপুরে মোটরসাইকেল ভাঙচুর

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতায় আতঙ্ক বাড়ছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এনিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। কিন্তু প্রতিকার মিলছে খুবই কম। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে ভোটের মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে।

পাবনা : স্বতন্ত্রের গাড়িবহরে নৌকা সমর্থকদের হামলা, আহত ৫ : পাবনা-১ আসনের সেলন্দা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলার অভিযোগ উঠেছে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ প্রচারণার একটি গাড়িবহর নিয়ে সাথিয়া উপজেলার সেলন্দা বাজার অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়িবহরের মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। এতে পাঁচজন আহত হন।

জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান মাসুদ বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রত্যেকটা প্রচারণায় নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের হামলা চালাচ্ছেন। আমরা প্রশাসনকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। আমরা প্রশাসনের নিকট নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানাই।

নাটোর : স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিস ভাঙচুর : নাটোরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাদ আলী সরকারের ট্রাক প্রতীকের প্রচারণা অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে দত্তপাড়া বিসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নাটোর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাদ আলী সরকার অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে নাটোর সদর উপজেলার দত্তপাড়া বিসিক এলাকায় প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনি প্রচার অফিসটি ভাঙচুর করে নৌকা সমর্থকরা। তিনি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

হামলার পর ঘটনাস্থলে যান আওয়ামী লীগের (নৌকা) প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার কোনো নেতা-কর্মী বা সমর্থক ট্রাক প্রতীকের ক্যাম্পের ধারেকাছেই যাননি। ট্রাকের কর্মীরাই ক্যা¤েপর কিছু চেয়ার ভেঙে ও পোস্টার ছিঁড়ে তার কর্মীদের ওপর মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছেন।

বগুড়া : স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান : বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী অজয় কুমার সরকারের কর্মীকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে আদমদীঘি সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। মারপিটের শিকার শামসুল ইসলাম উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি।

গত বুধবার রাতে উপজেলার রহিম উদ্দীন কলেজ গেটে এ ঘটনাটি ঘটে। আহত শামসুল ইসলাম জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় আদমদীঘি উপজেলার কুসুম্বি গ্রাম থেকে অজয় সরকারের কাঁচি মার্কার প্রচারণা শেষে তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা চার থেকে পাঁচজন কর্মী-সমর্থক রহিম উদ্দীন কলেজ গেট এলাকায় বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় ট্রাক মার্কার ভোট না করে কাঁচি মার্কার প্রচারণা চালানোয় আদমদীঘি সদর ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান তাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন।

এরপর রাত সাড়ে ৮টায় আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী খান মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদীর ট্রাক মার্কার কর্মীবাহিনী নিয়ে সেখানে গিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

জামালপুর : জামালপুরে নৌকার প্রচার কেন্দ্র ভাঙচুর : জামালপুর- ৫ সদর আসনে নৌকার নির্বাচনি প্রচার কেন্দ্রে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার গভীর রাতে জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে নৌকার একটি প্রচার কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই নির্বাচনি প্রচার কেন্দ্রের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইম হোসেন জানান, ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রেজনুর কর্মী-সমর্থকরা গভীর রাতে মোটরসাইকেলে এলাকায় ঘোরাফেরা করে। রাত ২টার পরে ঈগল প্রতীকের সমর্থক সৌরভ, বাবুলের নেতৃত্বে বিএনপি-জামাতের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল কালাম আজাদের নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি কেন্দ্রে ভাঙচুর করে। এ সময় পেট্রোল দিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হলে জুয়েল, জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন নৌকার সমর্থক বিষয়টি টের পেয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। ঘটনার পর ঈগল প্রতীকের সমর্থকরা পালিয়ে যায়।

কক্সবাজার : স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরে মামলা : কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মিজান সাঈদের ঈগল প্রতীকের প্রচারণার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাত ১২ জনকে আসামি করে রামু থানায় মামলা হয়েছে। রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু হয়েছে। অপরদিকে গতকাল কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনার জন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের কর্মীদের দায়ী করেছেন ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল জানান, ওই প্রার্থীর সমর্থকরা ঈদগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে ওই প্রার্থী।

নোয়াখালী : নৌকার অফিস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ : অফিস ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার অভিযোগে নোয়াখালী-২ আসনে নৌকার প্রার্থী মোরশেদ আলম সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিককের সমর্থকদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা, মামলা, হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর করেছেন। গতকাল দুপুরে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে মোরশেদ আলম কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নৌকার প্রার্থী মোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ৬৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী। নৌকার প্রার্থীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক। তিনি বলেন, নৌকার সমর্থকরা আমার নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে।

রাজশাহী : নৌকার প্রার্থীর প্রচারে বাধা, মাইক ভাঙচুর : রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনি প্রচারে বাধা, নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও মাইক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকালে বাগমারার আউচপাড়া ইউনিয়নের রক্ষিতপাড়া এলাকায় মাদরাসা মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন এ হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়, বুধবার বিকালে মহিলা নেতা-কর্মীদের নিয়ে পথসভা ও গণসংযোগে বের হন নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী খন্দকার শায়লা পারভীন। সভাস্থলে যাওয়ার সময় বাগমারার আউচপাড়া ইউনিয়নের রক্ষিতপাড়া এলাকায় মাদরাসা মাঠে পৌঁছালে তার নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান এমপি এনামুল হকের কর্মী-সমর্থকরা। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

শেরপুর : নির্বাচনি সহিংসতায় মোটরসাইকেল ভাঙচুর : শেরপুর-১ আসনের নৌকা ও ট্রাক প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। বুধবার মধ্যরাতে সদর উপজেলার লসমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

বুধবার রাতে কুসুমহাটি এলাকায় নৌকা প্রতীকের পথসভা চলাকালে ওই এলাকার ট্রাক মার্কার সমর্থক কয়েকজন যুবক ওই সভার সামনে দিয়ে একাধিকবার মোটরসাইকেলে ঘোরাফেরা করে। এতে নৌকার সমর্থকরা তাদের গতিরোধ করে চড়-থাপ্পড় দেয়। এরই জের ধরে ট্রাকের সমর্থকরা প্রতিবাদ জানালে সেখানে দুই পক্ষে মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহত হন অন্তত পাঁচ যুবক।

লালমনিরহাট : নৌকার সমর্থকদের হামলায় লাঙলের কর্মী আহত : লালমনিরহাটে নির্বাচনি সহিংসতা থামছেই না। বৃহস্পতিবার বিকালে নৌকা সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর চারজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। লালমনিরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান প্রধান জানান, বিকালে হাতিবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে নৌকার সমর্থকরা তার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এদিকে বুধবার রাতে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে নৌকা প্রতীকের কর্মীদের হামলায় জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের ১৪ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। শহরের আলোরূপা মোড়ে জাতীয় পার্টির জেলা কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মাদরাসার শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করছিলেন নৌকার প্রার্থী ও সমর্থকরা। বিষয়টি নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটিকে অবগত করে কোনো কাজ না হওয়ায় নিজেই গিয়েছিলাম সেই মিটিংয়ে। সেখানে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ফিরে দলীয় কার্যালয়ে চলে এলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে জাপার ১৪ জনকে রক্তাক্ত জখম করেছে।

সোনালী/জেআর