ঢাকা | জুলাই ২১, ২০২৪ - ১:১২ অপরাহ্ন

‘নৌকার প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, ২০ কোটি টাকা দিতে হবে’

  • আপডেট: Friday, November 24, 2023 - 9:22 pm

অনলাইন ডেস্ক: ‘আপনার মনোনয়নের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। আপনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সেজন্য আপনাকে দলের ফান্ডে ডোনেশন হিসেবে ২০ কোটি টাকা দিতে হবে। আপনি শর্তে রাজি থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন।’

সম্প্রতি মনোনয়ন প্রত্যাশী এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে ফোন করে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে এতে সন্দেহ হয় ব্যবসায়ীর। তিনি দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পর এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর হয়। তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে প্রতারণায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবির উত্তরা জোনাল টিম।

তারা হলেন- মো. ইয়াসিন ও তার মেয়ে সুরাইয়া ইয়াসমিন। তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে তার কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনের বিভিন্ন কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন বাবা–মেয়ে। তারা দু’জন মিলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ফোন করতেন। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ ঘটনায় তারা মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ফোন করে বলেন, ‘টাকা রেডি রাখবেন। যখন জমা দিতে বলা হবে তখন দেবেন। আর অল্প সময়ের মধ্যে আপনি দেখা করবেন।’ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ফোন করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, একেক সময়ে একেক ধরনের প্রতারণার মৌসুম থাকে। আগে চাকরি, বিদেশে লোক পাঠানোসহ বিভিন্নভাবে প্রতারণা হয়েছে। এখন চলছে মনোনয়নের নামে প্রতারণা। নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণার পরই নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তারা। অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে মনোনয়ন কিনেছেন।

প্রতারকরা এটাকে ঘিরে প্রার্থীদের ফোন করে নমিনেশন পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে ফান্ডে টাকা দিতে বলেন। অনেকেই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে কিছু টাকাও দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যারা টাকা না দিয়ে ডিবির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাদের তথ্যেই আমরা প্রতারকদের গ্রেপ্তার করেছি। তাদের রিমান্ডে এনে এই চক্রে অন্য যারা জড়িত সেটা জানার চেষ্টা করা হবে।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, প্রতারণার ক্ষেত্রে তারা প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। নিজেদের ফোন নম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নামে ‘ট্রু-কলার’ অ্যাপে সেভ করে রাখছে। এতে কারও কাছে কল গেলে তিনি নম্বরটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বলে ধরে নেবেন। এভাবে বিশ্বাস অর্জন করে তারা টার্গেট ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চালায়।

তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার আগে কয়েক ধাপে যাচাই-বাছাই করা হয়। শুধু ট্রু-কলারে সেভ করা নাম দেখে টাকা দিলেই মনোনয়ন মিলবে, বিষয়টি এত সহজ নয়।

সোনালী/জেআর