ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৪ - ১:৫৮ অপরাহ্ন

নিয়ামতপুরে দলে দলে আসছে ‘জিনাপার্টি’

  • আপডেট: Sunday, November 19, 2023 - 12:23 am

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ট্রলিতে বসে আছেন ১৩ জনের একটি দল। সঙ্গে রয়েছে কাস্তে, মাথাল, লেপ-কাঁথা, চাল-ডালসহ সাংসারিক জিনিসপত্র। যাচ্ছেন আমন ধান কাটার জন্য উপজেলার আশনদী গ্রামে। প্রতিবছরই এরা ডাক পেয়ে দল ধরে আসেন ধান কাটতে।

ধান কাটা শেষে পারিশ্রমিক নিয়ে এরা ফিরে যান নিজ বাড়িতে। ধান কাটার পারিশ্রমিক হিসাবে যে ধান পান এটাকে বলা হয় জিন। তাই স্থানীয়ভাবে আগত এ কৃষি শ্রমিকরা (ধান কাটা শ্রমিক) “জিনাপার্টি” নামেই পরিচিত এলাকায়।

শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে এমনই এক জিনা পার্টি’র দেখা মিলে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার তিনমাথা এলাকায়। কথোপকথনে জিনা পার্টির দলনেতা সহিবুর রহমান জানান, তাঁদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামে । প্রতিবছর আমন ধান কাটার মৌওসুমে তারা নিয়ামতপুরে আসেন। এবারও তাদের মোবাইল করে আসতে বলেছেন, তাই দল বেঁধে এসেছেন তারা। ২৫ থেকে ৩০ দিন তারা কৃষকের খামারে অথবা ফসলের মাঠে ক্যাম্প তৈরী করে ধান কাটবেন। খাওয়াদাওয়ার দায়িত্ব নিজেদের। তাই রান্নার সব রকমের সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছেন সাথে।

তিনি জানান, ধান মাড়াই শেষে কৃষকের গোলায় ধান তোলার পর যে পারিশ্রমিক পাবেন তা নিয়ে ফিরবেন ধরে। ধান কেটে পারিশ্রমিক হিসেবে তারা প্রত্যেকেই কম বেশী ১০ থেকে ১৫ মণ করে ধান পাবেনজানান তিনি।

মামুন নামের ওই দলের এক শ্রমিক জানান, এই সময়ে হারগে দ্যাশে কোন কাজ কাম থাকেনা। বাড়িতে বইস্যা থাকতে হয়। তাই ধান কাটতে চল্যা এসেছি। এখানে ধান কাটতে আসলে অনেক ধান পাওয়া যায। গত বছরেও অনেক ধান পায়াছিনু।

উপজেলার ভাবিচা গ্রামে ধান কাটতে আসা এমন এক দলের দলনেতা সুবেল জানান, তার দলে ১৬ জন শ্রমিক আছে। তারা বছরে দুইবার নিয়ামতপুরে ধান কাটতে আসে। নিয়ামতপুরের মাঠে অনেক ধান হয়। এ ধান কাটতে অনেক শ্রমিক লাগে। তাই এলাকার কৃষকেরা প্রতিবার ধান কাটার মৌসুমে আমাদের ডেকে নিয়ে আসেন ধান কাটতে।

তিনি আরও জানান, এই ধান কেটে আমরা ‘জিনা’ হিসেবে ১০-১৫ মণ ধান পাই। এতে করে আমরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হই।

উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের আম চাষি আশরাফুল জানান, ধানের জেলা হিসেবে নওগাঁর খ্যাতি সারাদেশে। নওগাঁর নিয়ামতপুরও একটি কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় এখানে প্রচুর ধান উৎপাদন হয়। এই ধান কাটার জন্য প্রতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ধান কাটা শ্রমিক নিয়ামতপুরে দল বেধেঁ আসেন। এতে করে আমাদের ঘরে ধান তুলতে অনেক সুবিধা হয়।

নিয়ামতপুর কৃষি বিভাগ জানায় নিয়ামপুরে আমনের চাষ হয়েছে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে। যা থেকে আমন ধানের উৎপাদন হবে প্রায় ১লাখ ১০ হাজার মেট্রিকটন।

সোনালী/জেআর