ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৯, ২০২৪ - ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

১৫ বছর এমপি আছি, কখনো প্রতারণার রাজনীতি করিনি

  • আপডেট: Tuesday, November 14, 2023 - 7:52 pm

ওয়ার্কার্স পার্টির সমাবেশে এমপি বাদশা

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, আমি গত তিন টার্মে আপনাদের এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করছি। কেউ বলতে পারবেন না, জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি কখনো ভঙ্গ করেছি। কেউ এসে স্বাক্ষী দিতে পারবেন না, কারও উপকারের পরিবর্তে টাকা নিয়েছি। এমন কোন নজির নেই; কোনদিন কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছি। আমি রাজনীতি করেছি এবং এখনো করছি শুধুমাত্র জনগণের জন্য। জনগণের স্বার্থের বিপরীতে যায়; এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনো জড়িত হইনি। কারণ আমার বিশ্বাস; জনগণ কখনোই প্রতারণার রাজনীতিকে পছন্দ করে না।

আজ মঙ্গলবার বিকালে শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় কাশিয়াডাঙ্গা ও রাজপাড়া থানা ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, শহরের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চল উপেক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ছিল। অনেকে বলতেন, আমাদের এলাকার কি হবে! আজকে তাকিয়ে দেখুন- আমাদের এলাকায় আইটি পার্ক হয়েছে। আইটি পার্ক যেখানে হয়েছে; সেখানে সবচেয়ে গরিব মানুষেরা বসবাস করতেন। তাদেরকে ওখান থেকে উচ্ছেদ করার কথা ছিল। আমি এই এলাকার এমপি। আমি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে এটি আটকেছি। আমি সেদিন বলেছিলাম, কোনোভাবেই গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা যাবে না। তাদের উচ্ছেদ করতে হলে আগে সরকারি অর্থে তাদের স্থায়ী বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সেদিন যা বলেছি; পরবর্তীতে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নও করেছি। যাদেরকে ওখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদেরকে হাতে আগে চেক দেয়া হয়েছে; এরপরে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এটাই হচ্ছে গণমানুষের রাজনীতি। আমি সেই রাজনীতিতেই বিশ্বাস করি।

আগামীতে সুযোগ পেলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের অন্যতম এই নেতা আরও বলেন, আমি যখন নির্বাচনে দাঁড়াই, তখন আমার এলাকাবাসীকে বলেছিলাম; যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আমার ছেলেমেয়েদের, মা বোনদের কষ্ট করে রেললাইন টপকে এপারে এসে স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করতে হবে না। ঘরের পাশেই উন্নত স্কুল-কলেজ হবে। আজকে এখানে দাঁড়িয়ে বলছি, আপনারাই বলুন- স্কুল-কলেজ হয়েছে, না হয়নি? আজকে আমার ছেলেমেয়েদের আর রেললাইন টপকানো লাগে না। তারা ঘরের পাশেই লেখাপড়া করে। শুধু আমাদের এলাকাই নয়, পুরো রাজশাহী শহরজুড়েই এটি করেছি। শহরের আর কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্নয়নের বাইরে নেই। আমাদের রাজশাহী এখন প্রকৃত অর্থেই শিক্ষানগরী। আগামীতে আপনারা যদি সুযোগ দেন, আমার এলাকার মানুষ যদি আমার পাশে থাকে; তাহলে আর যা পরিকল্পনা আছে- তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে এলাকাবাসীর মতামত চেয়ে টানা তিনবারের এই সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচন আসছে। এই নির্বাচনে কি করব তা আপনাদের কাছেই জিজ্ঞেস করছি। আপনারা যা বলবেন তাই হবে। আপনারা যদি বলেন, সৎ পথে থেকেছি; আমাকে দরকার, তবে আবারও নির্বাচন করব। আর যদি বলেন নির্বাচন করার দরকার নেই; তবে নির্বাচন করব না। কারণ, আমি নির্বাচনকে কখনো বাণিজ্য হিসেবে দেখিনা। আমি সবসময় সত্যের পক্ষে ছিলাম এখনো আছি। তাহলে যে এলাকায় আমার জন্ম; যে এলাকায় আমার নারী পোতা আছে; আগামীতে যদি আপনাদের সামনে এসে দাঁড়াই, আপনারা আমার পাশে থাকবেন কিনা আমি জানতে চাই। এ সময় উপস্থিত সাধারণ জনগণ সমস্বরে আগামীতেও এমপি বাদশার পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজপাড়া থানা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আব্দুল মতিন। বক্তব্য রাখেন, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, জেলা নারী মুক্তি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক তসলিমা খাতুন, মহানগর যুবমৈত্রীর সভাপতি ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য মাসুম আক্তার অনিক, মোশারোফ হোসেন, আব্দুল খালেক বকুল, কাশিয়াডাঙ্গা থানা কমিটির সভাপতি শামীম ইমতিয়াজ।

এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য আইনজীবী আবু সাঈদ, নাজমুল করিম অপু, মহানগর সদস্য আব্দুর রহিম, সীতানাথ বণিক, ছাত্রমৈত্রী মহানগরের সভাপতি ওহিদুর রহমান ওহি, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আদিলুজ্জামান আদিল, সাধারণ সম্পাদক সামশাদ হোসেন মডি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারদণ সম্পাদক শাহ আলম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাসেন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি গোলাম রসুল গোলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম মামুন, ৬ নম্বার ওয়ার্ডের পার্টির নেতা রিপন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম। সমাবেশ পরিচালনা করেন রাজপাড়া থানা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মনির উদ্দীন পান্না ও কাশিয়াডাঙ্গা থানার সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল বাবলু।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস