ঢাকা | জুলাই ২১, ২০২৪ - ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

যুব সমাবেশে মেনন-বাদশা: জনগণ নয়, বিএনপি-জামায়াতের আস্থা পশ্চিমারা

  • আপডেট: Friday, October 27, 2023 - 9:00 pm

শাহবাগ চত্বরে বিশাল যুব সমাবেশ

সোনালী ডেস্ক: ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের ওপর বিএনপি ও জামায়াতের কোন আস্থা এবং ভরসা নেই। রাজনৈতিকভাবে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিএনপি-জামায়াতের এখন একমাত্র ভরসার জায়গা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা।

আজ শুক্রবার শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত বিশাল যুব সমাবেশ থেকে তারা এসব কথা বলেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াতের গুলিতে নিহত শহিদ রাসেল আহম্মেদ খানের স্মরণে যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, আটাশে অক্টোবরে শহিদ রাসেল দিবস। রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতেই বিএনপি-জামায়াত ও দক্ষিণপন্থী অপশক্তি এই দিনকে বেছে নিয়েছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে- শহিদ রাসেলরা যেমন বুকে গুলি নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, বর্তমানে দেশবাসীও সেই একই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ওদের আন্দোলনের বেলুন ইতিমধ্যেই চুপসে গেছে। তাদের আন্দোলনের শেষ যাত্রা অস্তযাত্রায় রূপ নেবে।

২৮ অক্টোবরের স্মৃতিচারণ করে মেনন আরও বলেন, জামায়াতের গুলির সামনে লগি বৈঠা নিয়ে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা সেদিন যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তার ফলশ্রুতিতেই বিএনপি-জামায়াত জোটের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। সেই ব্যথা তারা আজও ভুলতে পারেনি। বিএনপির সাথে এবারও জামায়াত মাঠে নেমেছে। হেফাজতিরাও বসে নেই।

বর্ষীয়ান এই বামপন্থী নেতা বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে রেজিম চেঞ্জ-এর লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সকল দক্ষিণপন্থী শক্তিকে একত্রিত করেছে। কিন্তু তা কোনো ফল দেবে না। সাংবিধানিক ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে দেশবাসী শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানকে নিশ্চিত করবে।

যুব সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, আমাদের দেশকে নিয়ে এমন কোন খারাপ কথা নেই, যা মার্কিনিরা বলেনি! তারা বাংলাদেশকে দুর্ভিক্ষের কবলে ফেলার জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে খাদ্যবাহী নৌবহর ফিরিয়ে নিয়েছিল। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেদিন মার্কিন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিল। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আজকে আবারও সেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আমাদেশের দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আর তাদের সহযোগিতা করছে এদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি বিএনপি এবং জামায়াত।

বাদশা বলেন, আমেরিকা বিশ্বে কোথাও কোন ষড়যন্ত্র করে জয় লাভ করতে পারেনি। তারা ভিয়েতনামে গেছে, অস্ত্র ফেলে পালিয়েছে। আফগানিস্তানে গেছে, সেখানেও অস্ত্র ফেলে বিমানে উঠে পালিয়েছে। সুতরাং তাদের দেখে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসকে বিএনপি-জামায়াত তাদের রাজনৈতিক অফিসে পরিণত করেছে। সেখানে বসে তারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

তরুণ যুবকদের উদ্দেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক এই ভিপি বলেন, আমরা যখন ছাত্রনেতা ছিলাম, তখন কোন লড়াইয়ে পরাজিত হইনি। এখনকার সময়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের তরুণ ও যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যুব সমাজকে বলতে চাই, যে লড়াই আমরা শুরু করেছি, অতিতের মতো এই লড়াইয়েও আমাদের বিজয় লাভ করতে হবে।

যুব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি তৌহিদুর রহমান তৌহিদ। সাধারণ সম্পাদক তাপস দাসের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যুবনেতা সাজ্জাদ আলম খান তপু, যুবমৈত্রীর সহ-সভাপতি কায়সার আলম, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন, যুবমৈত্রীর সহ-সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন নাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মানোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইয়াদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ওমর ফারুক সুমন, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি অতুলন দাস আলো প্রমুখ।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস