ঢাকা | জুলাই ১৭, ২০২৪ - ৮:০১ অপরাহ্ন

শহরে পূজার নিরাপত্তায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তুষ্টি

  • আপডেট: Tuesday, October 24, 2023 - 11:00 am

♦ আজ শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

জগদীশ রবিদাস: আজ বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পক্ষ কালব্যাপী এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতনী ভক্তরা সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেবেন পদ্মা নদীর জলে। তবে গতবছর কিছু ত্যাক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এবছর পূজার নিরাপত্তা বিষয়ে ছোটখাটো আশঙ্কার বাসা বেঁধেছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনে! কিন্তু তা পুরোপুরিই পরিণত হয়েছে কল্পনায়।

গত শুক্রবার মহাষষ্ঠী থেকে শুরু করে আজ মঙ্গলবার দশমী পর্যন্ত শহরে শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব। পূজার আয়োজন নিরাপদ রাখতে সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে মহানগর পুলিশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সনাতন ধর্মের নেতারা আশা করছেন, এবার শান্তিপূর্ণভাবেই উৎসব উদযাপন আয়োজন সম্পন্ন হবে।

এর আগে গতকাল মহানবমীর দিনে শহরের ৭৯টি পূজামণ্ডপে ঢল নেমেছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। এ সময় হাজারো ভক্ত বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে-ঘুরে দেখেন এবং প্রতিমা দর্শন করেন। এদিন পূজামণ্ডপের বিভিন্ন আলোকসজ্জা ও গান-বাজনায় মেতে ওঠে পুরো রাজশাহী নগরী। আজ দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা মর্তলোক ছেড়ে ফিরে যাবেন স্বর্গশিখর কৈলাশের স্বামীগৃহে।‌ পেছনে ফেলবেন ভক্তদের শ্রদ্ধা ও আনন্দমাখা চোখের জল। আর দেবী দুর্গা ভক্তদের কাছে রেখে যাবেন; আগামী বছর ফের ফিরে আসার অঙ্গীকার!

এদিকে, গত শনিবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এবারের দুর্গাপূজায় নাশকতার কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছিলেন র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার। সোনালী সংবাদকে তিনি জানিয়েছেন, এবারের পূজায় নাশকতার কোন আশঙ্কার তথ্য ছিল না। কেউ যেন মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা গুজব সৃষ্টি করে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে; সেজন্য গত চারদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ ভার্চ্যুয়াল জগত মনিটরিং করা হয়েছে।

আর রাজশাহী পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন ধরনের হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনার বিচার না হওয়ায় একটি চক্র সবসময় অপতৎপরতার চেষ্টা চালায়। তবে এবছর সরকার এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত আগেভাগেই নিরাপত্তার বিষয় সম্পর্কে পূজা উদযাপন পরিষদের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে। এতে আমরা অত্যন্ত আশ্বস্ত হয়েছি। মাঠ পর্যায়ে এখনো অপ্রীতিকর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত নির্বিঘ্নে এবং কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা উদযাপন করতে পারছেন।

রাজশাহী শহরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে পূজা মন্ডপের নিরাপত্তায়। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সবাই পূজা মণ্ডপে ঢুকছেন। স্বেচ্ছাসেবকরাও নিয়োজিত রয়েছেন। মণ্ডপ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। ২৪ ঘণ্টা পালা করে দায়িত্ব পালন করছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ও স্বেচ্ছাসেবকরা। একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা বলছেন, নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও ছাড় নয়। কেউ যেন কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে।

গত চারদিন নগরজুড়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা স্বাচ্ছন্দে এবং কোন শংকা ছাড়াই পূজা উদযাপন করেছে উল্লেখ করে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমরা আমাদের নিজেদের স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রেখেছি। পূজা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও ঘাটতি আমরা দেখছি না। রাজশাহী মহানগর পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিক। তারা গত ১৫ দিন ধরে আমাদের খোঁজ খবর রাখছেন এবং সহযোগিতা করছেন। বিসর্জন পর্যন্ত কোনোধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ ছাড়াই পূজা উদযাপন সম্পন্ন করতে পারবো বলে মনে করছি।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম বলেন, শহরে শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আমাদের অসংখ্য পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। তারা পালা করে করে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ কমিশনার সবসময় সরাসরি খোঁজ খবর রাখছেন। এর পাশাপাশি রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ পূজা মণ্ডপগুলো সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনরকম আশঙ্কা ও নাশকতার সম্ভাবনার কোনো তথ্য নেই। আমরা আশা করছি, শেষ পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশেই শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে গত ১৫ দিন ধরে আমাদের পুলিশ সদস্যরা সক্রিয়ভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। গোয়েন্দা পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও নিজেদের কাজে নিয়োজিত আছেন। দুর্গোৎসব কিভাবে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়; এবং সর্বাত্মক নিরাপত্তা প্রদান করা যায়, সে বিষয়ে আমরা একাধিকবার সকলের সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করেছি। এখনো কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছি।

সোনালী/জেআর