ঢাকা | ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৪ - ৪:০৯ পূর্বাহ্ন

সিরাজগঞ্জে আপেল চাষে বোরহানের বাজিমাত

  • আপডেট: Sunday, October 15, 2023 - 10:19 pm

রফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে: আপেল চাষ করে তাক লাগিয়েছেন সিরাজগঞ্জের বোরহান উদ্দিন। বিদেশি এই ফল দেশে চাষ করা সম্ভব তা আগে কারো জানা ছিল না।

তবে বোরহান উদ্দিন আপেলের বাগান করে সেটা সম্ভব করেছেন। তার লাগানো ৩৫ গাছের আপেল বাগানটি দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভীড় করেন। অনেকে আবার তার কাছ থেকে পরামর্শও নিতে আসছেন।

জানা যায়, বোরহান উদ্দিন সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের খাসচর জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ৩ বছর আগে হিমাচলের হর্টি কার্লচার বাগান থেকে সংগ্রহ করে দেশের মাটিতে এর চাষ করা সম্ভব কিনা সেটা পরিক্ষা করতেই রোপন কররেছিলেন। তার সেই পরীক্ষা সফল হয়েছে।

তার লাগানো আন্না, ডোবশেক গোল্ডেন, এইচআরএমএম-৯৯, টফিক সুইট ও গ্রিনিস মিস জাতের আপেল গাছ গুলোতে ফলন এসেছে। তিনি তার বাগান আরো বড় করার পরিকল্পনা করছেন। বোরহান উদ্দিন বলেন, আমি ভারতের হিমাচল প্রদেশের টিস্যু কালচার ল্যাবে আপেল চাষের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি।

আমাদের দেশেও এর ফলন পাওয়া যাবে কিনা সেটা পরীক্ষা করতে বাড়ির পাশে আড়াই শতক জায়গায় ৩৫টি আপেল গাছের কলম চারা রোপন করি। চারা রোপনের ১১ মাস পরই গাছ ফুল ফলে ভরে উঠে। তারপর সেখান থেকে আরো চারা উৎপাদন করি।

তিনি আরো বলেন, আমার বাগানের নাম ‘হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স আপেল অর্চার্ড’। বড় আকারে বাগান করতে আমি হিমাচল প্রদেশের ননি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন গবেষকের পরামর্শ নিয়েছি। এছাড়াও নেদারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ অন্যান্য আরো জায়গার গবেষকদের থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করি।

চারা উৎপাদনের পর ২০১৯ সালে দেড় বিঘা জমিতে ৫ জাতের প্রায় ২০০ কলম চারা রোপন করি। বাগানে আন্না, ডোবশেক গোল্ডেন, এইচআরএমএম-৯৯, টফিক সুইট ও গ্রিনিস মিস জাতের আপেলের গাছ রয়েছে। বোরহান আরো বলেন, এর চাষ পদ্ধতি সহজ। প্রথমে গোবর সার দিয়ে চারা রোপন করলাম। পরে ইউরিয়া, পটাস, জিপসাম, দস্তা, বোরণ ও ম্যাগনেসিয়াম সার গাছে প্রয়োগ করতে হয়।

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে গাছে ফুল ধরার পর জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফল পরিপক্ক হয় এবং এ সময় গাছ থেকে আপেল সংগ্রহ করা যায়। প্রথম দিকে মাত্র ৩০-৪০ টি আপেল সংগ্রহ করতে পারলেও এবছর প্রতিটি গাছ থেকে এক থেকে দেড় মন করে ফলন পাবো। এছাড়াও আমার কাছ থেকে অনেকেই চারা সংগ্রহ করে বাড়ির ছাদে বা ঘরের পাশে রোপন করছেন। আমিও তাদেরকে চাষের পরামর্শ দিচ্ছি।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, বোরহান উদ্দিনের আপেলের বাগানের করার উদ্যোগের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তার এমন উদ্যোগকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। তার উদ্যোগ ও সফলতা যুবকদের অনুপ্রাণীত করবে। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

সোনালী/জেআর