ঢাকা | জুলাই ১৩, ২০২৪ - ৫:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

মান্দায় মাদকের টাকায় পাউবোর সম্পত্তিতে ভবন

  • আপডেট: Sunday, October 15, 2023 - 6:45 pm

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: মান্দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণ করা সম্পত্তি দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। উপজেলার পাঁজরভাঙ্গা বাজারের পশ্চিম পাশে এই ভবনটি নির্মাণ করছেন আতাউর রহমান নামের এক মাদক কারবারি।

ভবনটির নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য অভিযোগ দেয়া হলেও তা আমলে নেয়নি নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তারা। বাধা না থাকায় এক-এক করে পাউবোর দখল করা ওই সম্পত্তিতে নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচতলা ভবন।

বাজারের তরকারি পট্টিতে মাদক কারবারি আতাউর রহমানের রয়েছে আরেকটি তিনতলা সুরম্য ভবন। এই ভবনেই চলে তার মাদকের কারবার।

জানা যায়, মাদক কারবারি আতাউর রহমান উপজেলার চকসিদ্ধেশরী গ্রামের সামসুদ্দীন প্রামাণিকের ছেলে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে আতাউরের অবস্থান তৃতীয়। অভাব-অনটনের সংসার হওয়ায় তাদের কেউই প্রাথমিকের গণ্ডি পেরুতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আতাউর রহমানের বাবা সামসুদ্দীন প্রামাণিক জীবিকার তাগিদে পাঁজরভাঙ্গা বাজারের ফুটপাতে চায়ের দোকান করতেন। বাবার সেই দোকানে সহায়তা করত শিশু আতাউর রহমান।

বাজারে চলাফেরার কারণে এক সময় দিনমজুর হিসেবে হাটের ইজারাদারের টোল আদায়ের কাজ শুরু করেন। এভাবেই বাজারসহ আশপাশের লোকজনের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাঁজরভাঙ্গা সরকারি খাদ্যগুদামে নিয়মিত জুয়ার আসর বসিয়ে সেখান থেকে টাকা তোলা শুরু করেন আতাউর রহমান।

একই সঙ্গে জুয়ার আসরে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের খাবার, নারী ও মাদক সরবরাহের কাজ করতেন। এসব কাজ করতে গিয়ে এক সময় তিনি নিজেই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

মাদক কারবারি আতাউর রহমানের বাবা সামসুদ্দীনের বসতভিটা ছাড়া অন্য কোনো ফসলি জমি ছিল না। বাবার সেই বসতভিটায় জায়গা না হওয়ায় বাজারের তরকারি পট্টিতে একজন মুক্তিযোদ্ধার জমি কিনে তৈরি করেন দৃষ্টিনন্দন বাড়ি।

এ বাড়ি থেকেই চালিয়ে আসছেন মাদকের কারবার। এ পথ থেকে উপার্জিত টাকায় দুটি মাইক্রোবাস কিনলেও নতুন ভবন নির্মাণের সময় তা বিক্রি করে দেন। কয়েক বছর ধরে করছেন কেবল অপারেটরের ব্যবসা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাঁজরভাঙ্গা বাজারের একাধিক বাসিন্দা জানান, গাঁজা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও পরবর্তীতে হেরোইন, ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কয়েক বছরের মধ্যে টাকার কুমির বনে যান।

বাবার কোনো সম্পত্তির অংশ না পেলেও মাদক কারবারের টাকায় তৈরি করেছেন দুটি বহুতল ভবন। কিনেছেন বেশ কিছু সম্পত্তি। চুটিয়ে মাদকের কারবার করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েকবার। স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার হন একবার। সর্বশেষ দুই কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার হন তিনি। এই মামলাটি এখন নওগাঁ আদালতে বিচারাধীন আছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি দখল করে আতাউর রহমান যে ভবনটি নির্মাণ করছেন তাতে ব্যয় হবে কোটি টাকার ওপরে। অন্তত ৫০ লাখ টাকার আরেকটি তিনতলা ভবন আছে বাজারের তরকারি পট্টিতে। আয়ের অন্য কোনো উৎস না থাকলেও শুধুমাত্র মাদক বিক্রির টাকায় আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদক কারবারি আতাউর রহমান বলেন, কবলা করা সম্পত্তিতে নতুন ভবনটি নির্মাণ করছি। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি কি না বলতে পারছি না। মাদক ব্যবসা প্রসঙ্গে আতাউর রহমান বলেন, অনেক আগেই মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমান দুই কেজির একটি মামলা আদালতে চলছে।

জানতে চাইলে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফইজুর রহমান মোবাইল ফোনে কথা বলতে রাজি হননি।

সোনালী/জেআর